সারা দেশে প্রতিরক্ষা শিল্পে অসামরিক শ্রমিকদের একমাসব্যাপী ধর্মঘটের আহ্বান

defence

১৯ জুলাই ২০১৯, ‘কনফেডারেশন অফ ডিফেন্স রেকগনাইজড অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-কে প্রতিরক্ষা শিল্পের কর্পোরেটায়নের বিরুদ্ধে স্মারক লিপি দিয়ে জানান – ২১৮ বছরের পুরানো অর্ডনান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড (ওএফবি)-কে কর্পোরেটায়ন করার সিদ্ধান্তের জন্য ৪১টি কারখানার ৯০ হাজার কর্মী মর্মাহত হয়েছেন।

প্রতিরক্ষা শিল্পে বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে ৮২ হাজার অসামরিক শ্রমিক-কর্মচারী ২০ আগস্ট থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর একমাসব্যাপী ধর্মঘট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৩০ জুলাই সারাদেশে প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিটি ইউনিট স্ট্রাইক ব্যালট নেয়। প্রায় ১০০ শতাংশ শ্রমিক ধর্মঘটের পক্ষে রায় দিয়েছেন। ১ আগস্ট শ্রমিকরা ফ্যাক্টরিতে ফ্যাক্টরিতে স্ট্রাইক নোটিশ দিয়েছেন। স্বাধীন ভারতে এই প্রথম প্রতিরক্ষা শিল্পের সাথে যুক্ত ৩ টিট্রেড ইউনিয়ন এআইডিইএফ, আইএনডিডব্লুএফ, বিপিএমডি এবং এদের কেন্দ্রীয় ফেডারেশন ‘কনফেডারেশন অফ ডিফেন্স রেকগনাইজড অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিরক্ষা শিল্পকে কর্পোরেটায়ন করার বিরুদ্ধে সর্বভারতীয় স্তরে এক মাসের লাগাতার ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এআইসিসিটিইউ এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।

ওএফবি-কে একতরফাভাবে কর্পোরেটমুখী করার সিদ্ধান্তকে সিডিআরএ তীব্র প্রতিবাদ করেছে। সিডিআরএ তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ প্রতিষ্ঠান সম্পাদক ডি পি-র ঘোষণা ওএফবি-কে এক লাগাতার প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী করে তোলা হবে। এই মুহূর্তে বাজেটে ৭০৬ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। আশ্বাস দেওয়া হয় শিল্পের অগ্রগতির জন্য ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর’ উত্তর প্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে হবে। নতুন ২৭০০ জন কর্মী নিয়োগ করা হবে। কিন্তু সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্যে সরকারি সিদ্ধান্ত ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল। এর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সিডিআরএ ৪ দফা সম্বলিত চিঠি দেয়। ৪ দফাগুলি হল –

১) ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান ওএফবি কে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে কর্পোরেটায়ন করার একতরফা সিদ্ধান্তকে রুখতে হবে।

২) ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ বৈঠকে প্রতিষ্ঠান সম্পাদক ডি পি-র মাধ্যমে সরকারের যে আশ্বাস পাওয়া গেছিল তা কার্যকর করতে হবে।

৩) প্রতিরক্ষা শিল্প নিয়ে সরকারের প্রত্যাশা, এই শিল্পের দুর্বলতা / পরিস্থিতি, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এবং দুর্বলতা দূরীকরণে সরকারের সামূহিক উদ্যোগে সুরাহার পথগুলি সামনে আনা ।

৪) আপনার পৌরোহিত্যে সব অংশীদারসহ ৯০০০০ অসামরিক কর্মীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসে বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনা করা এবং সমস্যার সমাধান করা।

২ আগস্ট ‘কাশীপুর গান এন্ড শেল ফ্যাক্টরি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন’ ধর্মঘটের সমর্থনে বিবি বাজারে পথসভা করে। প্রতিরক্ষা শিল্পে কর্মরত অন্যান্য ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দও মিটিং-এ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ছিলেন আইএনডিডব্লুএফ অনুমোদিত কাশীপুর গান এন্ড শেল ফ্যাক্টরি কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনুব্রত চৌধুরী, এআইডিইএফ অনুমোদিত ‘মজদুর ইউনিয়ন’-এর যুগ্ম সম্পাদক পার্থ চট্টোপাধ্যায় , বিপিএমএস অনুমোদিত ‘মজদূর সংঘ’-এর সাধারণ সম্পাদক রামকৃষ্ণ মন্ডল, আইএনটিটিইউসি অনুমোদিত ‘এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন’-এর সাধারণ সম্পাদক পিয়াস দোলুই, সুপারভাইজার ইউনিয়ন-এর সাধারণ সম্পাদক দীপাঞ্জন দাস, এআইসিসিটিইউ-এর জাতীয় সম্পাদক শুভেন্দু সেন ও কাশীপুর গান এন্ড শেল ফ্যাক্টরি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি জয়দেব দে, যুগ্ম সহ সভাপতি অমিত চ্যাটার্জী এবং বেনু ঘটক প্রমুখ।

প্রতিরক্ষা শিল্প দেশের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র বা গোলাবারুদ উৎপাদন করে। প্রাক্তন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী শ্লোগান দিয়েছিলেন ‘ ‘জয় জওয়ান, জয় কিষাণ’। এখন বলার সময় হয়েছে ‘জয় বিজ্ঞান’। মহাকাশ গবেষণায় প্রতিরক্ষা শিল্পের অগ্রণী ভুমিকা আছে। ভারতের চন্দ্রযান-২ উৎক্ষেপণে প্রতিরক্ষা শিল্পের ভুমিকা ছিল চমৎকারিত্বে ভরা।

এই রকম এক সর্বাঙ্গীণ প্রতিষ্ঠানকে কর্পোরেটায়ন করার পদক্ষেপ নিয়েছে মোদী-২ সরকার। নৌ-বাহিনীকে ইতিমধ্যেই অনিল আম্বানির রিলায়েন্স নেভাল কোম্পানিকে দিয়ে দিয়েছে যে কোম্পানিটি ৯০০০ কোটি টাকা ঋণের বোঝায় দেউলিয়া হতে চলেছে। প্রতিরক্ষা শিল্পের শ্রমিকরা নিজেদের ও দেশের সার্বভৌমিকতা রক্ষার জন্য ধর্মঘটে নামছেন। এই ধর্মঘট হবে সার্বিক। মোদী-২ সরকারের কর্পোরেট রাজের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ ক্রমশ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন।

খণ্ড-26