চলে গেলেন ধনেখালির কমরেড মাসীমা
aunty

দীর্ঘদিন অসুস্থতা ভোগের পর ২১ এপ্রিল ভোর ৪.৪৫ মিনিটে বামপন্থী ও মানবিক মাসিমা আল্পনা অধিকারী (৮২) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার আগের রাতে যখন কমরেড সজল অধিকারীর সাথে যোগাযোগ হল তখনই কথা মনে হল মাসিমা কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে চলছেন।

কমরেড মাসিমা দীর্ঘদিন বামপন্থী ও আমাদের পার্টির বিপ্লবী আন্দোলনে দৃঢ ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে গেছেন। আমাদের পত্রপত্রিকা পড়তেন এবং খোঁজ খবর নিতেন। প্রয়াত মেসোমশায় কমরেড বীরেন্দ্র নাথ অধিকারী ধনেখালি ব্লক ও বেলমুড়ি অঞ্চলের বামপন্থী আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। সিপিএমের ভেতরে অনেক বাম নেতা ও কর্মীর আমাদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার ভূমিকা নিয়েছিলেন। বিশেষ করে আইপিএফ-এর কর্মকাণ্ড চলার সময়ে তিনি এই কাজটা করেছিলেন। মাসিমা অনেক রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের অত্যাচার মোকাবিলা করেছেন, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। অতীতে কংগ্রেস, সিপিএম, বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যাচারের সাক্ষী ছিলেন। এই ধরনের দৃঢ়চেতা ও মানবিক মাসিমারা পার্টির বিস্তার ও রক্ষার জন্য অনেককিছু নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ করার কারণে আমাদের সকলের কাছে শ্রদ্ধেয় হয়ে থাকবেন। দিনের পর দিন কমরেড সজলের জন্য রাত জেগে বসে থাকতেন। এটা তিনি মেনে নিয়ে ছিলেন। সেই কমরেড আল্পনা অধিকারী মাসিমা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমার মাসিমা ও মেসোমশায়ের সঙ্গে অনেক দিন গল্প হয়েছে, অনেক দিন বাড়িতে থেকেছি, কিন্তু কোনোদিনই সজলকে নিয়ে কিছু বলেননি, শুধু বলতেন তোমরা সাবধানে থেকো। খুবই বড় মনের পরিচয় দিতেন। সেই বামপন্থী ও মানবিক মাসিমাকে আমাদের হাজার হাজার লাল সেলাম। কমরেড সজল ও তার তিন বোন এবং পরিবার-পরিজনদের শোকের সাথে সহমর্মী হয়ে আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি।

- কার্তিক পাল

খণ্ড-27