রিয়া চক্রবর্তীর প্রতি নারী বিদ্বেষী হুমকিবাজি সুশান্ত সিং রাজপুতের ন্যায়বিচারকে প্রহসনে পর্যবসিত করেছে
rio

( সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ঘটনায় যাবতীয় দোষ চাপানো হচ্ছে রিয়া চক্রবর্তীর ঘাড়ে। মিডিয়া তার “বিচার” সেরে ফেলে সুশান্তর আত্মহত্যার জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। লাগাতার জেরার পর নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো তাকে গ্ৰেপ্তার করেছে। এর মধ্যে নারী বিদ্বেষ প্রকট হয়ে ফুটে উঠছে। এর প্রতিবাদে আইপোয়া একটা বিবৃতি দিয়েছে। সেটির ভাষান্তর আমরা এখানে রাখছি।)

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু সমস্ত সংবেদনশীল মানুষকেই ব্যথিত করেছে। বিহার এবং তার সাথে সারা দেশের জনগণ চান- সুশান্ত ও তার পরিবার যেন ন্যায় বিচার পায়। কিন্তু তার মৃত্যুর জন্য রিয়া চক্রবর্তী দায়ী কিনা সেটা আদালতকেই নির্ধারণ করতে দিতে হবে। মিডিয়া যেভাবে রিয়াকে আক্রমণ করে কালিমা লিপ্ত করছে তা এক ঘৃণ্য ও লজ্জাকর ব্যাপার। মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন যেভাবে রিয়ার গায়ে হাত দিয়ে তাকে ধাক্কাধাক্কি করেছে তাকে ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই। যারা এই কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

আইপোয়া মিডিয়ার কাছে আবেদন জানাচ্ছে, তারা আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করুক, এটা করে তারা সুশান্ত সিং রাজপুতের স্মৃতি সহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অবিচার করছে।

আইপোয়া জনগণের কাছেও আবেদন জানাচ্ছে, তাঁরা মিডিয়ার একটা অংশের অভিপ্রায় সম্পর্কেও সচেতন হন যারা সরকারের প্রচারক হিসাবে কাজ করছে। সুশান্ত সিং রাজপুতের ইস্যুকে ধরে সরকার দেশে ক্রমবর্ধমান বেকারি ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার মতো ইস্যুগুলো থেকে জনগণের দৃষ্টিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে; আসন্ন বিহার বিধানসভার নির্বাচনকে ধরে যে ইস্যুগুলো থেকে জনগণের দৃষ্টিকে বিক্ষিপ্ত করার প্রয়োজন সরকারের কাছে জরুরি হয়ে উঠেছে সেগুলো হল: বিহারের পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্গতি, কৃষকদের চরম দুরবস্থা, বিহারে দুর্বৃত্তদের মনোবল ও সাহস বেড়ে চলা এবং বিহারে ও সারা ভারতে নারী ধর্ষণ ও নারী-বিরোধী হিংসার ঘটনাগুলো ক্রমেই বেড়ে চলা।

এই বিষয়টার উল্লেখও জরুরি যে, বিহারে বিজেপির সাংস্কৃতিক সেল ঘোষণা করেছে যে তারা বিহার বিধানসভা নির্বাচনে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ইস্যুটাকে কাজে লাগাবে। এটাও বুঝতে হবে যে, পদ্মাবতী সিনেমাকে কেন্দ্র করে কারনি সেনার হামলার সময় যারা সুশান্ত সিং-এর প্রতি বৈরিতা দেখিয়েছিল, আজ তারা সুশান্ত সিং রাজপুতের শুভাকাঙ্ক্ষী হতে পারে না। আসল সত্যিটা হল, সুশান্ত সিং-এর মৃত্যুকে নিংড়ে ওরা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে। তদন্তের পরে যদি দেখা যায় যে এই ঘটনায় কোনো মহিলা অপরাধে জড়িয়ে আছেন, সে ক্ষেত্রেও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে তার বক্তব্য পেশ করতে দিতে হবে, এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলোকেও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। মিডিয়া চালিত বিচার পরিস্থিতিটার এতটাই বিকার ঘটিয়েছে যে তদন্তকারী সংস্থাগুলো এবং এমনকি আদালতের পক্ষেও অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করাটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আমরা  আদালত, জাতীয় নারী কমিশন এবং সংবাদ সম্প্রচার স্ট্যাণ্ডার্ড কর্ত্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি – এই ঘটনায় দৃঢ় হস্তক্ষেপ করে রিয়াকে কালিমালিপ্ত করার মিডিয়ার উদ্যোগে রাশ টানুন। ওরা নারী বিদ্বেষী ভাষা ও মতাদর্শের প্রয়োগে একটুও কার্পণ্য করছে না।

সুশান্ত একজন সংবেদনশীল ও প্রগতিশীল মানসিকতার যুবক ছিলেন। জীবিত থাকলে তিনি কখনই তাঁর নাম নিয়ে জনসমক্ষে এক মহিলার এই ধরনের অবমাননায় অনুমতি দিতেন না। আমরা তাই সুশান্তকে সম্মান করেন এমন সমস্ত মানুষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, সুশান্তর মৃত্যুর ঘটনায় মিডিয়া যে ধরনের সক্রিয়তা দেখাচ্ছে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

স্বাক্ষর   
রতি রাও, সভাপতি   
মীনা তেওয়ারি, সাধারণ সম্পাদিকা,   
কবিতা কৃষ্ণাণ, সম্পাদিকা, আইপোয়া   

খণ্ড-27
সংখ্যা-32