খবরা-খবর
কবিতা যখন লড়াইয়ের কথা বলে
When poetry

সময়ের চাকাকে পিছনের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জান্তব প্রচেষ্টায় রত ফ্যাসিবাদী শাসকেরা প্রশ্ন তোলার অধিকার কেড়ে নিয়ে সারা দেশে নামিয়ে এনেছে এক অদ্ভুত আঁধার। অন্ধকারে আলোর ঠিকানা দেখানোর কাজে যাঁদের পথে নামার কথা তাঁদেরও আনেকে বিভ্রান্ত, দিশাহারা। কিন্ত প্রাণপণ শক্তিতে এখনও বহু পদাতিক লন্ঠন হাতে দুর্গম পথে হেঁটে চলেছে। ফ্যাসিবাদের দুশ্চিন্তা সেখানেই। কোন ‘অমাপ্রসাদে’র ৩০০ ফুট উঁচু মূর্তি স্থাপন কিম্বা কোন অবতারের সুউচ্চ মন্দির নির্মাণ-এসব প্রকল্পকে তুচ্ছ করে দিয়ে এইসব পদাতিকরা যে শোনাচ্ছে ‘একুশের ডাক, মানুষের দাবি!’ বিলাসবহুল বিশাল বিশাল রথযাত্রায় ‘একুশের ডাক’কে চাপা দিতে অন্ধকারজীবী, কর্পোরেটজীবীরা এজন্য এত ভীষণ মরিয়া। দেশের পশ্চিম সীমান্তে অন্নদাতাদের মহাজাগরণের সংবাদ যেন পূর্ব সীমান্তে ঢেউ তুলতে না পারে, ভগৎ সিং আর ক্ষুদিরাম যেন একাকার না হয় -- সেজন্য ফ্যাসিবাদ ‘পিএম কিষানে’র সমস্ত কালো টাকা এ’রাজ্যেই ঢেলে দিতে প্রস্তুত। কিন্ত জোনাকিরা একদিন যে তারা হয়ে জ্বলবেই তা জানান দিতে হুগলী জেলার ব্যান্ডেলে ‘দুর্গা লজে’ ১২ ফেব্রুয়ারী কবিতা-গান-কথায় অনুষ্ঠিত হল এক সাংস্কৃতিক অপরাহ্ণ। উপলক্ষ্য ছিল ভিয়েৎ ব্যানার্জীর কাব্যগ্রন্থ ‘স্বগতোক্তি’র আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ। ভিয়েৎ পার্টির হুগলী জেলা কমিটির সদস্য। শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলনে সর্বদা সামিল থেকেই নিঃশব্দে তিনি কবিতা লিখে গেছেন কয়েক বছর ধরে। সমকালীন যুগের কথা, প্রবাসী শ্রমিকের যন্ত্রণা, হাথরাসের ঘটনা -- সব কিছুই তাঁর কবিতার উপজীব্য। আর সেজন্য পার্টির সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের হাত দিয়েই এই কাব্যগ্রন্থের পৃষ্ঠাগুলির প্রথম উন্মোচন হল।

‘রাম রাজত্বে’র নামে যে আসলে মোদী-অমিত শাহ কোম্পানিরাজ কায়েম করতে চায় তা যাঁদের কাছে স্পষ্ট এমন বহু বিশিষ্ট মানুষ, কবি, ‘আন্দোলনজীবী’ -- বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা সভাগৃহ ভরিয়ে তোলেন। এই সাংস্কৃতিক অপরাহ্ণে সংগীত পরিবেশন করেন বাবুনি মজুমদার, পৃথা মুখার্জী, সঙ্গীতা দাস, গীতালি ব্যানার্জী ও সতী সেন। কবিতা পাঠ করেন সুজন ভট্টাচার্য, কিশোর চক্রবর্তী, কল্যাণ সেন, শায়েরি ব্যানার্জী, সম্পন্না ব্যানার্জী, রিয়াংসিকা চক্রবর্তী, দেবাশিস রায় ও রীতা ব্যানার্জী (রীতা ভিয়েতের স্ত্রী এবং বস্তুত তাদের দাম্পত্যজীবনের রজত জয়ন্তী উপলক্ষ্যেই রীতা ভিয়েতের এই কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেন)। বলা বাহুল্য, সকলেই দীপঙ্করের বক্তব্য শোনার জন্য উন্মুখ ছিলেন। দীপঙ্কর তাঁর নাতিদীর্ঘ ভাষণে বলেন, মানুষ কী খাবে, কী পরবে, ‘লাভ জিহাদের’ নামে নারী-পুরুষের সম্পর্কের মাঝেও দেয়াল তুলে দেওয়া – সঙ্ঘ পরিবার এসব নিয়ে এতদিন ফতোয়া দিচ্ছিল। এখন তারা “কৃষকরা শুধু কৃষি নিয়ে বলুক, বন্দিমুক্তি নিয়ে যেন মুখ না খোলে আর প্রতিবাদীরা যেন অন্য ব্যাপারে কথা বললেও কৃষকদের নিয়ে সরব না হয়” -- এমন ফতোয়া দিচ্ছে। দীপঙ্কর বলেন, এই ফতোয়া পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশ মানতে অস্বীকার করেছে।

সুন্দর এই সাংস্কৃতিক অপরাহ্ণের সভামঞ্চে ছিলেন সনৎ রায়চৌধুরী, প্রণব দাশগুপ্ত, কৃষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়, কার্তিক পাল ও দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ছিলেন দেবাশিস মুখার্জী। এই অনুষ্ঠানে কাব্যগ্রন্থটির বিক্রয়লব্ধ অর্থ পার্টির নির্বাচনী তহবিলে প্রদান করা হয়।

খণ্ড-28
সংখ্যা-6