ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগে কোভিড ভলান্টিয়ার্স
Covid Volunteers at the initiative of the students _ 0

করোনা অতিমারীর সংকটের মুহূর্তে যখন দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, দৈনিক কোভিড সংক্রমণের হার বাড়ছে তীব্র গতিতে, অক্সিজেন-ওষুধ-হাসপাতালে বেডের অভাবে জায়গায় জায়গায় হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সাধারণ মানুষ, তখন এই সময়ের গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়ে, নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজ্যজুড়ে মানুষের সাহায্যে ছুটে বেড়াচ্ছে এক ঝাঁক ছাত্রছাত্রী, ওদের পরিচয় - ওরা কোভিড ভলান্টিয়ার্স। এই উদ্যোগের পেছনে উদ্যোগী আইসা (এআইএসএ)। এই স্বেচ্ছাসেবক টিম কাজ করেছে মূলত সাতটি জেলায় - কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলী, মুর্শিদাবাদ এবং বাঁকুড়ায়।

কলকাতা

কলকাতায় মূলত চারটি অঞ্চল জুড়ে সক্রিয় আছে কোভিড ভলান্টিয়ার্স টিম।

উত্তর কলকাতার (শুভাশীষ - ৮২৪০৭৯২২৩৪) শ্যামবাজার থেকে মৌলালী পর্যন্ত এলাকায় এই কাজে যুক্ত রয়েছেন ২০ জন ভলান্টিয়ার। ২৪ ঘন্টা হেল্পলাইন পরিষেবায় দেওয়া হচ্ছে অক্সিজেন, এ্যাম্বুলেন্স, টেস্টিংয়ের সন্ধান, পাশাপাশি বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সাইকেল করে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী।

দক্ষিণ কলকাতার (রুদ্র-৮০১৭৪৬২৬৪২) পার্ক সার্কাস থেকে গড়িয়া পর্যন্ত সমানতালে চলছে স্বেচ্ছাসেবকদের কাজ, যুক্ত রয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক পড়ুয়া। আবেদন যখনই আসুক, জোর কদমে চলছে হেল্পলাইন ও ডেলিভারি পরিষেবা।

মেটিয়াবুরুজ-গার্ডেনরিচ-খিদিরপুর (আফশা -  ৭২৭৮১১১০৩৮) এলাকায় হেল্পলাইনের পাশাপাশি ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য এলাকায় সচেতনতা মূলক প্রয়াস।

বেহালায় (অভিজিৎ- ৮৭৭৭৭৩৪৩৫৫) আরওয়াইএ’র সাথে যৌথ উদ্যোগে কাজ হচ্ছে দুটি অঞ্চল ভাগ করে - পূর্ব ও পশ্চিম বেহালায়, যুক্ত আছেন ১৫ জন ভলান্টিয়ার। বাড়ি বাড়ি প্রয়োজনীয় সামগ্রী, ওষুধ, হেল্পলাইন পরিষেবার পাশাপাশি চলছে এলাকায় দৈনন্দিন স্যানিটাইজেশনের কাজ – উদ্যোগ পৌঁছে যাচ্ছে তৃণমূল, সিপিএমের পার্টি অফিসেও।

এছাড়াও যাদবপুর-ঢাকুরিয়া অঞ্চলে কাজ করছে এলাকার ছাত্রছাত্রীরা, তাদের পরিচয় ‘বোকাবুড়ো’ (আকাশ- ৯৮৩০৪৫১৭৬৭), এই কোভিডকালে এলাকায় ভরসার আর এক নাম।

হাওড়া

বালি-বেলুড় গ্রামাঞ্চল-পৌরাঞ্চল জুড়ে (অঙ্কিত- ৭০০৩৮০৬৯৫৬) এখন সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘সংহতি হেঁসেল’। স্বল্পমূল্যে এবং প্রয়োজনে বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে খাবার, দেওয়া হচ্ছে ওষুধপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী। হেল্পলাইন পরিষেবাও চলছে সমানতালে। আমাদের এই কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে যুক্ত হচ্ছেন এলাকার আরও অনেক ছাত্রছাত্রী এবং নাগরিক সমাজের অন্যান্যরাও।

হুগলী

উত্তরপাড়া, হিন্দমোটর, কোন্নগর, রিষড়া জুড়ে (সৌরভ- ৮৭৭৭০৮৮২৯০) চলছে স্বেচ্ছাসেবকদের কাজ। হেল্পলাইনের পাশাপাশি, অক্সিজেনের সন্ধান, বাড়িতে রান্না করে খাবার পৌঁছে দেওয়া – সবই চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। এই কর্মকান্ডে যুক্ত আছেন আরওয়াইএ’র যুব কর্মীরাও।

বাঁকুড়া

বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর মিউনিসিপালিটি (ফারহান-৮৩৪৮৯১২৭৯৮) জুড়ে কাজ করছেন ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক। এই কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে যুক্ত হচ্ছেন এলাকার সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা, থাকছেন বাঁকুড়া ক্রিশ্চান কলেজের অধ্যাপকরাও। এই উদ্যোগে পাশে থাকছে সমাজসেবী সংস্থা ‘উত্তরণ’, পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে খাবার, ওষুধ সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী।

মুর্শিদাবাদ

লালগোলা-ভগবানগোলা অঞ্চলে (নূর-৬২৮৯৮৬১৬৪৪) কাজ চলছে জোরকদমে। আইসা’র সাথে সদ্য সম্পর্ক হ‌ওয়া এলাকার ১০-১২ জন ছাত্রছাত্রী সময়ের দাবিকে মান্যতা দিয়ে এই কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রিফিল করে পৌঁছে দিচ্ছেন অক্সিজেন, সাথে ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন হাসপাতালে ভর্তির। এলাকার মানুষের ব্যাপক সমর্থন পেয়ে কাজের গতি বাড়ছে দৈনন্দিন।

দক্ষিণ ২৪ পরগণা

দক্ষিণ ২৪ পরগণায় মূলত কাজ হচ্ছে দুটি অঞ্চল জুড়ে।

ক্যানিং, বারুইপুর, সোনারপুর অঞ্চলে (সৌমী- ৮২৪০৪৬১৭৪৯) চলছে হেল্পলাইন পরিষেবা, বিভিন্ন সময়ে অর্থাভাবে থাকা রুগীদের জন্য দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা খরচও।

বজবজ, বিষ্ণুপুর, সাতগাছিয়া অঞ্চলে (দীপ- ৭৪৩৯৪৬১৩৭৪) হাসপাতালে বেডের হদিস থেকে শুরু করে অন্যান্য জরুরি কাজেও থাকছেন স্বেচ্ছাসেবকরা - পৌঁছে দিচ্ছেন অক্সিজেন, প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ইত্যাদি। এই উদ্যোগে সামিল হচ্ছেন এলাকার সাধারণ ছাত্রছাত্রীরাও।

উত্তর ২৪ পরগণা

দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে জেলায় কোভিড ভলান্টিয়ার্সদের কাজ। জেলার নয়টি অঞ্চলে বিস্তৃত এই কাজে অংশগ্রহণ করেছে বহু ছাত্রছাত্রী, যাদের অধিকাংশই এই কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছে।

দক্ষিণ দমদম অঞ্চলে (ত্রিজিত- ৭২৭৮৪২৬৭০৯) ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবকের উদ্যোগে দমদম-পাতিপুকুর-লেকটাউন- ক্যান্টনমেন্ট-এয়ারপোর্ট অঞ্চল জুড়ে চলছে পরিষেবা। হেল্পলাইনের পাশাপাশি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ওষুধপত্র, অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী।

বেলঘরিয়া, বরানগর, আড়িয়াদহ (বিশ্ব- ৯৩৩০৪৭৪০৬০) জুড়ে চলছে পরিষেবা, যুক্ত রয়েছেন ২০ জন ভলান্টিয়ার। ওষুধ, দ্রব্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, এলাকা ও কোভিড পেশেন্টদের বাড়ি স্যানিটাইজ করা, রুগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়া, নিয়মিত অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া, ঝড়-জল-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সমস্ত কাজই চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। এলাকার মানুষের কাছে এই দুর্দিনে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রয়াস হয়ে উঠছে প্রশংসাযোগ্য, পাশে পাওয়া যাচ্ছে সাধারণ ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজের অন্যান্যদের। আগামীদিনে পরিকল্পনা আছে একটি ‘সংহতি হেঁসেল’ চালু করার।

ব্যারাকপুর থেকে কাঁচড়াপাড়া (শুভ্র- ৮৬১৭৭৪৭৫০৩) বিস্তৃত শিল্পাঞ্চলের পাশাপাশি নৈহাটি-জগদ্দল গ্রামাঞ্চল জুড়ে পরিষেবা দিয়ে চলেছে কোভিড ভলান্টিয়াররা। অক্সিজেন সিলিন্ডার, ওষুধ নিয়ে ব্যাপক প্রতিকূলতাকে জয় করে শহর ও গ্রামাঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে স্বেচ্ছাকর্মীরা, সাথে থাকছে স্যানিটাইজেশনের পরিষেবাও। এই কাজে দিনরাত যুক্ত থাকছেন ২৫ জনের বেশি ভলান্টিয়ার্স।

রাজারহাট (শুভদীপ- ৮৯১০২৯৯৭৬১) অঞ্চলে চিনার পার্ক থেকে সল্টলেক পর্যন্ত কোভিড ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে অক্সিজেন, দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালের হদিস। উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বলা যেতে পারে নকশালবাড়ি আন্দোলনের প্রথম পর্বের ছাত্রনেতা অসীম চ্যাটার্জি গুরুতর অসুস্থ হলে কর্মীরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে অক্সিজেন পরিষেবার বন্দোবস্ত করে দেয়, এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান প্রবীণ অসীম চ্যাটার্জি।

নিউ ব্যারাকপুর-বিশরপাড়া-মধ্যমগ্রাম (আমন- ৮০১৩৫৬২০৯৩) অঞ্চল জুড়ে ছাত্রছাত্রীদের যোগদানে চলছে পরিষেবা দেওয়ার কাজ। হেল্পলাইন পরিষেবার পাশাপাশি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ওষুধপত্র-অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী। এই কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে যুক্ত হয়েছেন এলাকার সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা।

বারাসাত (আবির- ৯৭৪৮৯২৫২২৪) স্টেশন চত্বর থেকে শুরু করে নেতাজী পল্লী, ঠাকুরনগর পল্লী পর্যন্ত এলাকায় কাজ করছেন কর্মীরা। হেল্পলাইনের পাশাপাশি খাবার পৌঁছে দেওয়া, এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা, ওষুধ-অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া - সময় যখনই হোক, রাত ১টা বা ভোরবেলা, স্বেচ্ছাসেবীরা পৌঁছে যাচ্ছেন নিঃস্বার্থভাবে।

বনগাঁয় (পৌষালী- ৭০০৩৫০৭৬৬৫) বেশ কিছু অঞ্চলে জারি আছে হেল্পলাইন পরিষেবা। এই কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে যুক্ত হয়েছেন ছাত্রীদের একটা অংশ। ছাত্রীদের নেতৃত্বেই চলছে এই কর্মকান্ড।

গোবরডাঙ্গা (সায়ন- ৯৮৮৩৬৬৪৬০৫) থেকে শুঁটিয়া এবং অন্যদিকে মসলন্দপুর পর্যন্ত চলছে স্বেচ্ছাসেবকদের কাজ, সেখানে যুক্ত আছেন ৩৫ জন ছাত্রছাত্রী। অক্সিজেন, এ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি অর্থাভাবে থাকা কোভিড রুগীর পরিবারকে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে পর্যাপ্ত রেশনও। সামাজিক সংহতির এক অনন্য নজির এই ঘটনা এবং এআইএসএ’র উদ্যোগে চলা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এলাকায়।

অশোকনগর-হাবড়া (প্রীতম- ৯০৯১১৭২৭১৬) পৌর এলাকা জুড়ে ৩০ জন ছাত্রছাত্রীর অংশগ্রহণে চলছে কোভিড ভলান্টিয়ার্স টিম। নেতৃত্বে আছে নাগরিক উদ্যোগের মঞ্চ ‘সুচেতনা’। অক্সিজেন, খাবার, ওষুধ, এ্যাম্বুলেন্স, সমস্ত কিছুই পৌঁছে যাচ্ছে কোভিড আক্রান্তদের কাছে। সাথে চলছে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়াস। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির কর্মীরাও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে যুক্ত হয়েছেন এই উদ্যোগে।

এছাড়াও হাবড়া ব্লক-২ রাজীবপুর, বরাহনগর, খড়দহ অঞ্চলেও বেশ কিছু যুবদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, দ্রুত কোভিড ভলান্টিয়ার কাজ শুরু করা হবে।

এছাড়াও রাজ্যের আরও বেশ কিছু অঞ্চলে ভলেন্টিয়ার্স টিম তৈরির প্রস্তুতি চলছে।

ইতিমধ্যেই যে সমস্ত অঞ্চলে স্বেচ্ছাসেবকদের কাজ চলছে, সেখানে তাদের কাজ যাতে নির্বিঘ্নে এবং সুরক্ষিত ভাবে এগিয়ে যেতে পারে তা সুনিশ্চিত করতে আইসা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে পিপিই, ফেসশিল্ড, মাস্ক সহ সেফটি কিট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ভলান্টিয়ার্স টিমগুলির কাছে।

এই কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে যে বহু মানুষজন আর্থিকভাবে সহায়তা করছেন, তাদের প্রতি এই ছাত্র-যুব বাহিনী কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে। আগামীদিনে আরোও কিছু বহুমুখী উদ্যোগ পরিকল্পনার নেওয়ার আছে। সেই কাজে সংবেদনশীল নাগরিক সমাজের সকলের উদ্দেশ্যে আবেদন থাকছে -- সাধ্যমত সহযোগিতার জন্য অর্থ সাহায্য করতে পারেন এই একাউন্টে :

SOURAV ROY
Account No. 31072403165
State Bank of India, Konnagar Branch
IFS Code - SBIN0002078
Google pay Number – 9038900672

খণ্ড-28
সংখ্যা-19