এআইপিডব্লিউএ পশ্চিমবঙ্গ শাখা আয়োজিত এক আলোচনা সভার রিপোর্ট

৯ সেপ্টেম্বর, সারা ভারত প্রগতিশীল মহিলা সমিতির উদ্যোগে, 'ফ্যাসিবাদকে চেনা ও মোকাবিলার উপায়' বিষয়ক একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভার অংশগ্রহণকারিরা ছিলেন সমিতির পশ্চিমবঙ্গ শাখার কর্মীবৃন্দ। সারা ভারত প্রগতিশীল মহিলা সমিতির জাতীয় সম্পাদক, কবিতা কৃষ্ণান ছিলেন সভার মুখ্য বক্তা।

সভার শুরুতে আইপোয়ার রাজ্য সম্পাদিকা কমরেড ইন্দ্রানী দত্ত দেশজুড়ে চলা ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। গনরোষে একের পর এক পুড়িয়ে মারার ঘটনা, লভ-জিহাদের আলোচনার মূল পর্বে ঢোকার আগে, নয়া-উদারনীতি ও ফ্যাসিবাদের দ্বৈত আক্রমণে দেশের খেটে খাওয়া মানুষের উপর হওয়া বিবিধ ঘটনা, তথ্যের উল্লেখ করেন।

তারপরে মূল আলোচনার বিষয় ছিল ''ফ্যাসিবাদ কী ও তাকে মোকাবিলার উপায়।''

নিচে পড়ুন সেই বক্তব্য --

অন্যান্য রাজনৈতিক দলের (যারা ক্ষমতায় থাকাকালীন একইরকম দমনমূলক নীতি, অরাজকতাকে হাতিয়ার করে গণতন্ত্র বিঘ্নিত করে) সাথে ফ্যাসিবাদী দলগুলির বৈশিষ্ট্যগত ও কার্যকরি পার্থক্য রয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিশেষ চরিত্রই হলো এটি জনগণের সংখ্যাগুরু অংশকে সংগঠিত করে সমাজের বিভিন্ন সংখ্যালঘু বর্গের প্রতি ঘৃণার সঞ্চার করে। সংসদীয় ক্ষমতায় না থাকলেও সংখ্যালঘু বিদ্বেষ, ধর্মীয় বিভাজন ফ্যাসিবাদের কার্যক্রমের মূল ক্ষেত্র। তার ফল আজকের ভারতবর্ষে পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে টাকার মূল্য পড়ে যাওয়া বা বেকারত্ব আকাশচুম্বী হলেও জনমানসের একটি অংশ মোদীর বন্দনা করছে শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষের ধূয়োতে। প্রসঙ্গত এই পর্বের আলোচনায় স্পষ্ট, ফ্যাসিবাদের মেরুদন্ড দ্বেষ, ঘৃণার রাজনীতি।

বর্তমান ভারতে এই রাজনীতি ছড়িয়ে পড়ার কারন খুঁজতে, বিশ্বের ফ্যাসিবাদী ইতিহাস ও তার রাজনীতিকরন সংক্রান্ত বোঝাপড়া জরুরি। ফ্যাসিবাদের আগ্রাসী রূপ বিশ্বের সামনে আসে জার্মানিতে হিটলারের নেতৃত্বে ইহুদী নিধন পর্বে। জার্মানিতে থেকে হিটলারের প্রচার অভিযানের মূল অভিমুখ ছিলো, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির টুকরো টুকরো হয়ে গেছে, জার্মানির জাতিসত্ত্বার পবিত্রতা অর্থাৎ জার্মানির প্রকৃত অধিবাসীরা আর্য। আর্য শ্রেষ্ঠ জাতি। আর্য উত্তরাধিকারের বিশুদ্ধতাকে অপবিত্র করছে ইহুদী নস্ল। ঠিক যেভাবে ভারতবর্ষে আজ মুসলিম কৌম, নস্ল হিন্দুর আর্য বিশুদ্ধতা নষ্ট করছে। মেইনকাম্প-এ হিটলার লিখছে, ''ইহুদী ছেলেরা কালো চামড়ার ছেলেদের নিয়ে আমাদের মেয়েদের ফুস্লায়, আমাদের নস্ল খারাপ করতে।''

তৎকালীন জার্মানিতে এই প্রচারের ভিত্তিতে হিংসা হয়। একইভাবে, কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে লাভ-জিহাদ নামে ক্যাম্পেন শুরু হলো। ক্যাম্পেনের বক্তব্য, মুসলিম ছেলেরা হিন্দু মেয়েদের ফাঁসিয়ে নিয়ে বিয়ে করে, হিন্দু মেয়েদের ধর্মান্তরিত করার জন্য। হিন্দু মেয়ে, মুসলিম ছেলের নিজ-সম্মতির প্রেম বা বিয়ে, হিন্দু জাতিসত্ত্বার অস্তিত্ব নাকি সংকটে ফেলছে। হিটলার থেকে মোদী-সরকার, মেয়েদের ইচ্ছা, সম্মতি, স্বাধিকারকে নাকচ করে হিংসা চালায়। মহিলারা জাতির সম্পত্তি হিসেবে ফ্যাসিবাদের কুক্ষিগত থাকে। সেই সময়ের জার্মানিতে মহিলাদের উদ্দ্যেশ্যে হিটলারের শ্লোগান ছিল, 'ব্যাক টু কিচেন, চিলড্রেন, চার্চ'-এ। আজকের ভারতেও, কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় থাকা ফ্যাসিস্টরা মহিলাদের বেঁধে রাখতে চায় হিন্দু পরিবারের পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোয়। যেখানে নারীর অস্তিত্বের লক্ষণরেখা পুরুষ, পরিবার ও সমাজের সেবিকা হওয়ায় সীমিত।

কেনো এবং কীভাবে এই হিংসার রাজনীতি বিস্তার করে তা বুঝতে ভাবতে চোখ রাখতে হবে আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতির উপর। প্রত্যহ সংখ্যা-লঘু, দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের গণ-হত্যার ঘটনা,নাগরিকত্ব বিলের মত অগণতান্ত্রিক বিল প্রস্তাব, গরু বাঁচানোর নামে মানুষকে মারা, গণতান্ত্রিক যে কোনো স্বরকে দেশদ্রোহীর তকমা দেওয়া-ভারতবর্ষে ফ্যাসিবাদ নিজ-ভূমিকায় প্রকট। ফ্যাসিস্টদের হিন্দু-রাষ্ট্রে আর্য-হিন্দু মানুষের আধার। অনার্যরা হিন্দুরাষ্ট্রে মনুষ্যেতর হিসেবে গণ্য।

ভারতবর্ষে হেডগাওয়ারের নেতৃত্বে আরএসএস ১৯২৫ সালে গঠিত হয়। ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি তৈরি হয় ঐ বছরেই। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকে আরএসএস-এর লিখিত প্রচার, পত্রিকার বয়ানে লিখছে, ওরা হিন্দুরাষ্ট্র চায়। তাই স্বাধীনতা-সংগ্রামের সময় গোটা দেশ যখন ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়ছে, আরএসএস এর লেখা, বক্তব্যে দেশের শত্রু চিহ্নিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়, ইংরেজ নয়। 'উই অর আওয়ার নেশনহুড ডিফাইণ্ড' নামের বইতে গোলওয়ালকার লিখছে, 'আমাদের দেশ হিন্দুদেশ’। ওই বইতে গোলওয়ালকার হিটলারের প্রশংসা করছে। বলছে মুসলিমরা যদি ভারতে থাকতে চায়, তাদের মেনে নিতে হবে হিন্দুর আধিপত্য। নাগরিকত্বের সম-অধিকার পাবেনা তারা। 'বাঞ্চ অফ থট'-এ বলছে, যেহেতু ভারত হিন্দু-দেশ তাই অ-হিন্দু যারা হিন্দুত্বের বশ্যতা মেনে নেবেনা তারাই সাম্প্রদায়িক। অর্থাৎ,মুসলিম, শিখ, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, সংরক্ষণের দাবি করা দলিত, সমতার কথা বলা মহিলা সবাই সাম্প্রদায়িক। মহিলাদের সাম্য ও মুক্তির দাবিকেই সমালোচনা করে, হিটলারের উদ্ধৃতি দিয়ে গোলওয়ালকার লিখেছে হিন্দু-নারীর স্থান পরিবারে, সমাজের সেবিকার ভূমিকায়। সারা বিশ্বে যে ঘৃণার সংস্কৃতি নিন্দিত, যে সংস্কৃতি থেকে জন্ম আরএসএস, সঙ্ঘ-পরিবারের। যাদের দেশের ধারণায় প্রেম, সমতা, মুক্তি নেই। পরিবর্তে রয়েছে ঘৃণা, স্বৈরাচারের নীতি। এই হিন্দুত্বের আধার ব্রাহ্মণ্যবাদী আদর্শ। এই আদর্শের প্রতীক মনুস্মৃতির উপর দাঁড়িয়ে আর এস এস-সঙ্ঘ পরিবারের হিন্দু রাষ্ট্রের ভিত। মনুস্মৃতি মহিলা-বিরোধী, দলিত-বিরোধী। নীচু-জাতি, মহিলাদের স্বাধিকার ফুঁৎকারে উড়িয়ে দেয় মনুবাদ। আম্বেদকার এই মনুস্মৃতি পোড়ানোর কথা বলেন। সংবিধান তৈরির সময় আরএসএস, নিজেদের মুখপত্রের সম্পাদকীয়তে, ভারতীয় সংবিধানের একতার কথাকে তিরস্কার করে। ডাক দেয়, ‘সংবিধান বদলো, মনুস্মৃতি লাও’। এখনো যখন আর এস এস, সঙ্ঘপরিবার সংবিধান বদলানোর কথা বলে, তা আসলে মনুস্মৃতি ফেরত আনার চেষ্টা।

হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ভবিষ্যতের মুখ, উত্তরপ্রদেশের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ ২০১০-এ সংসদে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের দাবির চরম বিরোধিতা করেছিলো। বিজেপি এই সংরক্ষণ বিল সমর্থন করলে, দলের বাকী মন্ত্রীদের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিরুদ্ধে সংগঠিত করার হুমকি দেয় আদিত্যনাথ। নিজে লেখে, মহিলারা মাতৃ-শক্তি তাই মাতৃ-শক্তির লাগাম হাতে রাখতে হবে। একবিংশ শতাব্দীতে, মহিলারা থাকবেন বাবা, স্বামী, ছেলের অধীনে। সংসদ পুরুষদের জায়গা। মহিলার জায়গা ঘরে। অর্থাৎ,ব্যাক টু কিচেন, চিলড্রেন, চার্চ। ব্যাক টু হিটলার।

পিছনের যে রাস্তা নারীর সমতা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার পাথেয় নয়। আর এস এস তাদের দলিলে ‘সামাজিক-সমরাস্তা’ নীতির কথা বলে। সামাজিক শান্তি বজায় রাখা যে নীতির লক্ষ্য। সামাজিক-সমরাস্তা বা সামাজিক শান্তি বজায় রাখার জন্য কী করতে হবে? তার উদাহরণ পাওয়া যায় রাষ্ট্রীয় সেবিকা সংঘ, আর এস এস-এর মহিলা সংগঠনকে দেওয়া নির্দেশে। নির্দেশ পরিবারের মধ্যে দিয়ে শান্তি বজায় রাখতে হবে। অর্থাৎ নিজের শোষণ নিয়ে মহিলারা কথা বললে তা হবে পরিবারের শান্তি ভঙ্গ। দলিতরা সমাজে সম-অধিকারের কথা বললে শুনতে হবে, 'তোমরা শান্তি নষ্ট করছো’। সামাজিক-সমরাস্তা আসলে এক-ধর্মী, চাপিয়ে দেওয়া একটি আদর্শের রূপ। যে সমরাস্তা ভারতবর্ষের ভিন্নতার ইতিহাস ও বর্তমানকে সংখ্যাগুরুর ছাঁচে ফেলতে চায়। এই ফ্যাসিস্ট ক্ষমতার ভাষা, লিঙ্গ-জাতি-ধর্মের বৈপরীত্বকে ঘৃণার বিভাজন দিয়ে ভাগ করে, এই ভাষা তাই মুক্তির অসমার্থক। ক্ষমতার ভাষার ব্যাকরণে তৈরি হওয়া সংস্কৃতির কাঁধে ভর দিয়ে চলে দ্বেষের আস্ফালন। যে সংস্কৃতির অন্যতম মুখ্য আধার পুরুষতান্ত্রিকতা। হিন্দুত্ববাদের ‘ভারতীয় সংস্কৃতি’ মহিলাদের স্বাধীন চলাফেরা, নিজের সাথী নির্বাচন বা পোশাক নির্বাচনের অধিকারের চরম বিরোধী। ২০১৪ সালে বিজেপি নিজের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোয়, কলকারখানাগুলিতে ইণ্ডাস্ট্রি ফ্যামিলি বানানোর প্রস্তাব দেয়। পরিবারে শ্রমিকের ইউনিয়ন করার অধিকার থাকবে না নিশ্চিত। পরিবারে অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই এর প্রশ্ন থাকেনা। ইউনিয়নের অধিকারের লড়াই না থাকলে লাভ মালিক-শ্রেণীর। ব্যাঙ্গালোরের গারমেন্ট ফ্যাক্টরিতে মহিলা শ্রমিকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষেধ। হোস্টেলে মহিলা শ্রমিকদের লক করে রাখা হয়। এইভাবে পরিবারতন্ত্র বলবৎ করে মজদুরদের নিয়ন্ত্রণ চায় বিজেপি, আরএসএস-এর মত হিন্দুত্ববাদী দলগুলি। নীতি-পুলিশি, ধর্ষন-সংস্কৃতির থেকে এভাবেই পুষ্ট হয় ফ্যাসিবাদ। সমাজের প্রতিটি প্রান্তিক অবস্থানের সংকট ত্বরাণ্বিত করে এই ঘৃণার সংস্কৃতি। শ্রমিক শ্রেণীর ঐক্যকে দুর্বল করতে চায় ধর্ম-জাতের বিভাজন করে। মহিলাদের মধ্যে বিভাজন ভালো মেয়ে, খারাপ মেয়ের সংজ্ঞা তৈরি করে। নারীকে সমাজের পিতৃতান্ত্রিক সীমায় আবদ্ধ করে, নারীর অধিকারকে অস্বীকার করে তাকে সমাজের (এক্ষেত্রে হিন্দু-রাষ্ট্রের) সম্পত্তি বানাতে চায়। অপরদিকে দলিত, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে অধীনস্ত রাখতে চায় ব্রাহ্মণ্যবাদের খাঁচায়।

তাই বিজেপি, আরএসএস, সঙ্ঘ-পরিবারের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু সংসদে সীমাবদ্ধ নয়। এই লড়াই ফ্যাসিস্ট মতাদর্শের বিরুদ্ধে। আন্ত-জাতি, আন্ত-ধর্ম বিয়ে, নারির সমমর্যাদা, জাতি-বিদ্বেষী সংস্কৃতির প্রতিরোধ ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই এর অংশ। 'কি করতে হবে' বইয়ে লেনিন লিখছেন, একজন আদর্শ কমিউনিস্ট জনতার নেতা, জননায়ক। যিনি প্রতিটি নিপীড়িত শ্রেনীর, যে কোনো মাত্রার শোষণ ও উৎপীড়নের প্রশ্নে সোচ্চার থাকবেন। এই সময় কমিউনিস্টদের অবশ্য কাজ, অর্থনৈতিক শোষণ ও সামাজিক উৎপীড়নের বিরুদ্ধের লড়াইকে একসাথে জোড়া। সরকার-সত্ত্বা-পুঁজিবাদের আঁতাতকে জনতার সামনে নিয়ে আসা। শ্রমিক-নারী-দলিতদের লড়াইকে এক সুতোয় বাঁধতে হবে। বিদ্বেষের রাজনীতিকে পরাস্ত করতে ভিন্নতার মধ্যে একতা দরকার। এই একতার লক্ষ্যে সমাজের প্রতিটি প্রান্তিক মানুষের নিপীড়নের বিরুদ্ধের লড়াই-এর সাথে যুক্ত হতে হবে কমিউনিস্ট পার্টিকে। ২০১৯-এ বিজেপি ক্ষমতায় এলে হিন্দু-রাষ্ট্রের দিকে দেশ এগোবে দ্রুততায়। ফ্যাসিস্ট শক্তির সাথে মোকাবিলা করতে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিটি ভোট যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধের। নীতি-পুলিশি থেকে গণ-প্রহার, আপনার সামনে হওয়া যে কোনো অন্যায়, হিংসার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। ক্রান্তি ও সাম্যবাদী সমাজের লক্ষ্যে সংগঠিত হন। সমতা ও মুক্তির পথে লড়াইকে জোরদার করে, ভারতে ফ্যাসিবাদ রুখে দিন। নিজের সংগঠন মজবুত করুন। বিপ্লবী সংগঠনের সাথে মানুষকে যুক্ত করুন।
সম্রীতি মুখার্জী

খণ্ড-25
সংখ্যা-30