৪৮ ঘণ্টার সফল সাধারণ ধর্মঘটের শিক্ষা : মোদী-মমতার স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার হবে

৮-৯ জানুয়ারি ৪৮ঘণ্টা দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট সর্বাত্মক সফল করার জন্য রাজ্যবাসী বিশেষত: শ্রমিক-কৃষক, ছাত্র-যুব ও মহিলাদের সংগ্রামী অভিনন্দন জানাচ্ছে সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি। ধর্মঘটের দাবিগুলোর সুষ্ঠ মীমাংসার জন্য কেন্দ্রের বিন্দুমাত্র হেলদোল নেই, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগাম ছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, চরম বেকারত্ব, সমকাজে সমমজুরি ও শ্রমজীবী জনগণের সামাজিক নিরাপত্তার দাবিতে লড়াই অব্যাহত থাকবে। দেশব্যাপী একমাত্র বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ধর্মঘট ভাঙতে তৎপরতা দেখিয়েছিল সেখানকার সরকার, আর এরাজ্যে ধর্মঘট ভাঙতে বিজেপি-র ‘বি- টিম’ হিসাবে আসরে নেমেছিল তৃণমূল সরকার ও তার মস্তান বাহিনী। পুলিশ-প্রশাসনকে প্ক্ষাঘাতগ্রস্ত করে তৃণমূলী ভৈরববাহিনী শ্রমিক মহল্লাগুলোতে এবং রাজপথে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে আন্দোলন কর্মীদের উপর হামলা চালায়। শতাধিক ধর্মঘটী আহত হয়। বিশেষত: দ্বিতীয় দিনের ধর্মঘটে। উত্তরের চা-বাগান থেকে শুরু করে চটকল মহল্লাগুলোতে ধর্মঘট সর্বাত্মক হয়েছে। খালি বাস চালিয়ে বা চাকরি ছেদের হুমকি দিয়ে সরকারি অফিসগুলোতে হাজিরা ঠিক রাখার চেষ্টা করা হলেও, দুদিন ধরেই দোকানপাট, বাজার-হাট, স্কুল-কলেজ অধিকাংশ বন্ধ ছিল, কোথাও কোথাও হুমকি দিয়ে সেগুলো খোলা হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেস যখন ধর্মঘট ভাঙায় ব্যস্ত তখন তৃণমূলেরই দুই সাংসদ সৌমিত্র খাঁ ও অনুপম হাজরা রাজ্য এবং তৃণমূল কংগ্রেসে গণতন্ত্র নেই এই অভিযোগ তুলে সাংসদ সৌমিত্র খাঁ সরাসরি বিজেপি-তে যুক্ত হলেন এবং অনুপম হাজরা যাওয়ার রাস্তা পরিষ্কার করছেন। তৃণমূল নেত্রী বিজেপি-র হাতকে ‘শক্তিশালী’ করতে উঠেপড়ে লাগায় সাংসদ/বিধায়করা বিজেপি-তে যাওয়ার “অনুপ্রেরণা” পেয়েছে। ত্রিপুরাতে এইভাবে তৃণমূলী বিধায়করা সরাসরি বিজেপি-তে যুক্ত হয়েছিল। রাজ্যের মানুষ নরেন্দ্র মোদী এবং মমতা ব্যানার্জি-র স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন আরো জোরালো করবে। দু- দিনের সফল ধর্মঘট রাজ্যজুড়ে শ্রমজীবী জনগণের কাছে এই বার্তাই দিয়েছে।

- সিপিআই (এম-এল) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির পক্ষে পার্থঘোষ, রাজ্য সম্পাদক

খণ্ড-26
সংখ্যা-2
10-01-2019