''কৃষক ও গ্রামীণ মজুর অধিকার যাত্রা" হবে পলাশী থেকে কৃষ্ণনগর, কালনা থেকে চু্ঁচুড়া

Adhikar Yatra 1

 ২১ জানুয়ারি এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ আই কে এম-এর পশ্চিমবঙ্গ সহ-সভাপতি কার্তিক পাল এবং সি পি আই (এম এল) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক পার্থ ঘোষ বলেন, ব্রিগেডের সভায় বাংলার কৃষকের তিনগুণ আয় বৃদ্ধি হয়েছে বলে দেশের ও রাজ্যের কৃষক জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করলছে তৃণমূল সরকার।

সারা দেশে কেন্দ্রের মোদী সরকার কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে কাজ করে চলছে, বিপরীতে কৃষি ও কৃষক বিরোধী নীতি নিয়ে চলছে। এর বিরুদ্ধে জনগণ যখন দেশজুড়ে সোচ্চার তখন সংখ্যাতত্ত্বের কারসাজি করে কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার কৃষক জনগণকে তাদের ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত করে ধোঁকা দিয়ে চলেছে। দেশের কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, তারা মহাজনী ঋণ, ব্যাঙ্ক ঋণ সহ বিভিন্ন ঋণে জর্জরিত। কৃষি মজুর ও গ্রামীণ মজুররা কাজ ও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত থাকছেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, ২০২২ সালের মধ্যে নাকি কৃষকের আয় দ্বিগুণ হয়ে যাবে! আর এরাজ্যের তৃণমূল সরকার বলছে, এখানে তারা নাকি তা তিনগুণ করে দিয়েছে। কিন্তু বাস্তব তথ্য হল, সমগ্র দেশে প্রায় ৪ লক্ষ কৃষক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। আর, পশ্চিমবঙ্গেও ২০১৭-১৮ বছরে কৃষক আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ১৮৫। সম্প্রতি ৭ জন শবর কৃষকের অনাহারে মৃত্যুর ঘটনা রাজ্যে বহুল চর্চিত বিষয়। যদিও এই মৃত্যু মিছিলের দায় এড়াতে রাজ্যের তৃণমূল সরকার ও কেন্দ্রের মোদী সরকার নানাবিধ কুযুক্তির জাল বিস্তার করে চলছে। কেন্দ্রের সরকার যেমন, তেমনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারও স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ কার্যকর করছে না। সুপারিশ অনুসারে, ধানের মূল্য কুইন্টাল প্রতি হয় ২৩৫০ টাকা, অথচ রাজ্যের তৃণমূল সরকার ধান কিনছে মাত্র ১৭৫০ টাকায়। কৃষি মজুরদের কাজ ও মজুরিরও সেই একই দুরবস্থা। ন্যূনতম মজুরি যেখানে হওয়া উচিত ৬০০ টাকা, সেখানে কৃষি মজুররা পাচ্ছেন মাত্র ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। আশা- অঙ্গনওয়াড়ি-মিড ডে মিল কর্মীরাও ন্যূনতম মজুরি থেকে বঞ্চিত। মহাজনী ঋণ আর অভাবী বিক্রী আজ কৃষকের নিত্যসঙ্গী বা নিয়তি।

বাংলার কৃষক ও গ্রামীণ মজুরদের এই সমস্ত দাবিতে, বিজেপির দাঙ্গার রাজনীতির বিরুদ্ধে এবং রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আগামী ২৭ থেকে ৩১ জানুয়ারী একদিকে পলাশী থেকে কৃষ্ণনগর অন্যদিকে কালনা থেকে চুঁচুড়া বিভিন্ন পথ ধরে ৫ দিন ধরে কৃষক-গ্রামীণ মজুর অধিকার যাত্রা সংগঠিত হবে।

খণ্ড-26
সংখ্যা-4
24-01-2019