ইসলামোফোবিয়ার নতুন লক্ষ্যবস্তু মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা

৪ জুলাই এক প্রেস বিবৃতিতে সিপিআই(এমএল) রাজ্য সম্পাদক পার্থ ঘোষ বলেন, ৩ জুলাই সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কোনরকম তথ্য প্রমাণ ছাড়াই বিবৃতি দিলেন, পশ্চিমবাংলার মাদ্রাসাগুলিতে সন্ত্রাসবাদের শিক্ষা দেওয়া হয়। মালদা, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম জেলায় এবারের নির্বাচনে তেমন সুবিধা করতে না পারার পর ওই জেলাগুলোর সংখ্যালঘু মানুষদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে মাদ্রাসায় সন্ত্রাসবাদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে বলে শোরগোল তুলে দিলেন মন্ত্রীপ্রবর। স্বাধ্বী প্রজ্ঞা, কর্ণেল পুরোহিত, সুনীল যোশী কোথায় শিক্ষা পেয়েছিলেন তা নিয়ে দেশবাসীকে কখনোই জানানো হয় না, উল্টে সংখ্যালঘু মানুষের উপর যখন ভিড় সন্ত্রাস বা গণপিটুনি, হত্যার ঘটনা লাগাতার বেড়ে চলেছে তখন তাকে মদত দিতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এই মিথ্যা তথ্য সংসদে হাজির করলেন। সাচার কমিটির রিপোর্টকেন লাগু হল না, সংখ্যালঘু মানুষের অর্থনৈতিক দূরাবস্থা কিভাবে কাটানো যায়, তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কি করে উন্নতি করা যায়, সে বিষয়ে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারগুলির বিন্দুমাত্র নজর নেই। ইসলামোফোবিয়াকে নতুন নতুনভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সংঘ পরিবারের কারখানায় নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার হয়ে চলেছে। মাদ্রাসাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু বানানো তারই অঙ্গ। অতীতেও আমরা “মাদ্রাসাগুলি সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর” বা “মাদ্রাসাগুলিতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের তৈরি করা হয়” এই মিথ্যাচার দেখেছি। মোদী-২ সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাতেই হাওয়া দিলেন। রাজ্যের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন, ধর্মনিরপেক্ষ জনগণকে বিভাজনের এই রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

খণ্ড-26
সংখ্যা-19
04-07-2019