জাতীয় তদন্ত সংস্থা সংক্রান্ত আইন (NIA) ও বেআইনী কার্যকলাপ প্রতিরোধী আইনের (UAPA) দানবিক সংশোধন এবং তথ্য জানার অধিকার (RTI) সংক্রান্ত আইনের লঘুকরণের প্রতিবাদ করুন

সিপিআই(এমএল) সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য ২৬ জুলাই এক প্রেস বিবৃতিতে বলেন : সংসদে মোদী সরকারের আনা জাতীয় তদন্ত সংস্থা সংক্রান্ত আইন (NIA) ও বেআইনী কার্যকলাপ প্রতিরোধী আইন (UAPA) এর মতো কালা কানুনের আরো অগণতান্ত্রিক সংশোধন এবং তথ্য জানার অধিকার (RTI) সংক্রান্ত আইনের লঘুকরণ লোকসভায় পাস হয়ে গেলো। এই পদক্ষেপ ভারতবর্ষের গণতন্ত্র, নাগরিক স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকারের ওপর এক চরম আঘাত।

আগে থেকেই NIA আইনের দেদার অপব্যবহার করা চলছিল, এই সংশোধন এই অপব্যবহার রোধের রাস্তা তৈরি করার বদলে কুখ্যাত আইনটির বিপুল ক্ষমতা এবং ব্যাপক প্রয়োগের সম্প্রসারণ ঘটালো। এই NIA আইনের সংশোধনে “সন্ত্রাসবাদ”— এই বিষয়টির কোনো সংজ্ঞা না থাকায় বস্তুত যে কোনো কিছুকেই “সন্ত্রাসবাদ” নামে অভিহিত করা সম্ভব হবে।

বিরোধীদের ফাঁসাতে দানবিক UAPA এর ব্যবহারের ব্যাপক দৃষ্টান্ত রয়েছে। এখন সংশোধিত UAPA আইন অধিকতর দানবিক হলো। এই সংশোধনের ফলে শুধুমাত্র কোনো সংস্থাকেই নয়, এককভাবে কোনো ব্যক্তিকেও “সন্ত্রাসবাদী” বলে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) ঘোষণা করে দিতে পারবে!

কেন্দ্রীয় তথ্য সংস্থার স্বায়ত্ব শাসনের ধ্বংসসাধন এবং এই সংস্থাকে সরকারের হাতের পুতুলে পরিণত করার জন্যে RTI আইনের সংশোধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই সংশোধন মূলত রাজ্য তথ্য সংস্থার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তথ্য সংস্থার কমিশনারদের মেয়াদ, বেতন ও ভাতা নির্ধারণের জন্য সরকারকে ক্ষমতা দেবে। এই সংশোধন তথ্য সংস্থাগুলির ওপর সরকারের অপরিসীম নিয়ন্ত্রণ কায়েম করবে। ফলে তাদের স্বায়ত্ব শাসন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।

প্রতি বছর ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ মানুষ স্বচ্ছতার দাবিতে RTI আইনের অধিকার প্রয়োগ করেন। এবার এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক হাতিয়ারকেও মোদী সরকার ধ্বংস করে দিতে চলেছে।

সিপিআই(এমএল) এই সংশোধনগুলির বিরুদ্ধে ২৭ জুলাই থেকে স্বাধীনতা দিবস অর্থাৎ ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত সমগ্র দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এই কর্মসূচি আয়োজনের জন্যে সিপিআই(এমএল) তার সংগঠনগুলিকে আহ্বান জানাচ্ছে।

খণ্ড-26
সংখ্যা-23
01-08-2019