৩৭০ ও ৩৫এ ধারা পুনর্বহাল কর! কাশ্মীরের সমস্ত বিরোধী নেতাদের মুক্ত কর!! কাশ্মীর ও সংবিধান নিয়ে বিপজ্জনক খেলা বন্ধ কর!!!

kashmir

৩৭০ ধারা নাকচ করে রাষ্ট্রপতির আদেশনামা এবং জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মীর এই দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে বিভাজিত করা ভারতীয় সংবিধানে অন্তর্ঘাত চালানো ছাড়া আর কিছু নয়। স্বভাবসিদ্ধ লুকোছাপা, ষড়যন্ত্র ও অবৈধ পথে মোদি সরকার কাশ্মীরের সাথে বাকি ভারতের সাংবিধানিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্রকে ধ্বংস করছে।

এই অন্তর্ঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে মোদি সরকার গত সপ্তাহ জুড়ে কাশ্মীরকে অন্তরীণ করে ফেলে। ৩৫,০০০ অতিরিক্ত সেনা নিয়োগ করেছে কাশ্মীর উপত্যকায়, এই এলাকা এমনিতেই বিশ্বের সর্বোচ্চ সেনা অধ্যুষিত এলাকাগুলির অন্যতম। পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাশ্মীর উপত্যকা ত্যাগ করার জন্য সতর্কতা জারি করায় ব্যাপক ভীতির সঞ্চার হয়; অন্যদিকে কাশ্মীরী জনতা কিন্তু যাত্রীদের জন্য নিজেদের বাড়ির দরজা খোলা থাকার ঘোষণা দেয়। এরপর আবার বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের রাতারাতি গৃহবন্দী করা হয়, ইনটারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়, পেট্রল বিক্রি বন্ধ করা হয় এবং সিআরপিএফ বাহিনী পুলিশ থানাগুলির দখল নেয়।

সংবিধান অনুসারে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ৩৭০ ও ৩৫-ক ধারা সংক্রান্ত কোনও পরিবর্তন রাজ্য বিধানসভার সম্মতি ব্যতিরেকে করা সম্ভব নয়। ২০১৮ সালে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভা বেআইনিভাবে ভেঙে দেওয়া হয় কোনও পক্ষকেই সরকার গড়ার কোনও রকম সুযোগ না দিয়ে। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন ও লোকসভা নির্বাচন সংঘটিত করা এড়িয়ে যায়। সুতরাং একথা স্পষ্ট যে রাষ্ট্রপতির আদেশনামা আসলে এক অন্তর্ঘাত।

বিমুদ্রাকরণ দেশে দূর্নীতি ও অবৈধ টাকার সমস্যা দূর করেনি – বরং তা দূর্নীতিকে আরও সুবিধা করে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন দুর্ভোগ এনে হাজির করেছে। একইভাবে জম্মু ও কাশ্মীর সংক্রান্ত এইসব অত্যাচার ও ষড়যন্ত্রমূলক সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হল এমন সময়ে যখন সে রাজ্যে কোনও নির্বাচিত সরকার আর নেই। এ পথে কাশ্মীর সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হবেনা । বরং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। আরও তীব্র সেনা আধিপত্য ও বিরোধী দলগুলির ওপর দমন কাশ্মীরের জনতাকে আরও বিচ্ছিন্ন করবে। তাছাড়া, এই অন্তর্ঘাত কেবল কাশ্মীরের পরিস্থিতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, এটা সংবিধানের ওপরেই আক্রমণ এবং তা সমগ্র ভারতকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

জম্মু ও কাশ্মীরে এই উদ্যোগ এবং নাগরিকত্ব আইনে সংশোধনী ও এনআরসি – বিজেপি দেশকে ১৯৪০-এর দশকের মতো অস্থিরতার দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরকে কার্যত জরুরি অবস্থার মধ্যে ফেলে দেওয়া হল – ভারতকে জেগে উঠতে হবে , প্রতিরোধ গড়তে হবে। কারণ এই জরুরি অবস্থা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়বে গোটা দেশে।

এই সংকটকালে সিপিআই(এমএল) কাশ্মীরের জনতার পাশে দাঁড়াচ্ছে। সংবিধানে অন্তর্ঘাতের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও সতর্কতার ডাক দিচ্ছে। কাশ্মীরে জবরদখল অবিলম্বে বন্ধ করা, ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা পুনর্বহাল করা ও বিরোধী দলগুলির নেতাদের মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছে।

দীপঙ্কর ভট্টাচার্য,
সাধারণ সম্পাদক সিপিআই(এমএল) লিবারেশন

নয়া দিল্লী, ৫ আগষ্ট ২০১৯

খণ্ড-26