বিবৃতি
সর্বাত্মক সফল সাধারণ ধর্মঘট ও হরতাল জানিয়ে দিল বাংলায় ফ্যাসিস্টদের জায়গা নেই

৮ জানুয়ারী এক প্রেস বিবৃতিতে সিপিআই(এমএল) রাজ্য সম্পাদক পার্থ ঘোষ বলেন, দীর্ঘ ৩ মাস ধরে রাজ্যজুড়ে সর্বাত্মক প্রচারাভিযান চালিয়ে শহর ও গ্রামের শ্রমিক, কৃষক, কৃষিমজুর ও অন্যান্য শ্রমজীবী জনগণ ধর্মঘট সফল করার জন্য আজ পথে নেমেছিলেন। তাদের এই প্রচারাভিযান আরও গতি পায় ছাত্র যুবদের সর্বাত্মক স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে। জামিয়া মিলিয়া, আলিগড় ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপর রাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনীর বর্বর দমন পীড়ন এরাজ্যের ছাত্র-ছাত্রী ও যুবদের অংশগ্রহণকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। লড়াইয়ের জমি প্রস্তুত ছিল।

আজ ৮ জানুয়ারী ২০২০ সকাল থেকেই এটা পরিস্কার হয়ে যায়, শাসক দলের হুমকি আর প্রশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করেছেন অথবা ধর্মঘটের দাবিগুলিকে সমর্থন করেছেন। কেন্দ্র বা রাজ্যের শাসকদলের কোনো প্ররোচনা ধর্মঘট ভাঙ্গার কাজে জনগণের কোনো অংশকেই সামিল করতে পারেনি। রাজ্য সরকার ও রাজ্যের শাসকদল এই পরিস্থিতিতে পিছু হটে। আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে বেলঘড়িয়া, নৈহাটি, বারাসাত, বর্ধমান, হিন্দমোটর, কোন্নগর, পান্ডুয়ায় যেমন রেল অবরোধ হয়, তেমনি ৩৪ ও ৩৬নং জাতীয় সড়ক ও জিটি রোড অবরোধ করা হয়। বাঁকুড়া থেকে কোচবিহার, দার্জিলিং-এর শহর ও চা বাগান স্তব্ধ ছিল। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার শহর ও গ্রামাঞ্চল থেকে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে মালদহ মুর্শিদাবাদ সর্বত্রই ধর্মঘট ও হরতাল ছিল সর্বাত্মক। আরামবাগ ও মালদহে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটলেও ধর্মঘট ছিল মোটের উপর শান্তিপূর্ণ।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে হিংসা ও অশান্তির যে অভিযোগ করেছেন, তা সরকার ও শাসকদলের মুখরক্ষার স্বার্থে। মুখ্যমন্ত্রী বরং ২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর তাঁর উপস্থিতিতে বিধান সভায় অর্জুন সিং ও তার তৃণমূলী বাহিনীর ধ্বংসকান্ডের হিসাব নিকাশ মিলিয়ে নিতে পারেন।

এই সফল প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও সাধারণ ধর্মঘট কেন্দ্রের শাসক জোট বিজেপি এবং আরএসএস-কে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে এরাজ্যে গৈরিক ফ্যাসিস্টদের কোন জায়গা নেই। প্রধানমন্ত্রী তাঁর আসন্ন এ রাজ্য সফরে উপযুক্ত অভ্যর্থনা পাবেন বলেই মনে হয়। ইতিমধ্যেই পার্কসার্কাসে বাংলার শাহিনবাগ শুরু হয়ে গেছে। আরও আরও প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের জন্য এখন জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে। সফল ধর্মঘট আগামী কাজকে সফল করার পথ দেখালো। রাজ্যবাসী ও শ্রমজীবী জনগণকে অভিনন্দন।

খণ্ড-27
সংখ্যা-2