কমরেড অরূপ চ্যাটার্জী

৪ মার্চ সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের ভবানীপুর-চেতলা-কালীঘাট আঞ্চলিক কমিটির অন্যতম নেতা ও কলকাতা জেলা কমিটির প্রাক্তন সদস্য কমরেড অরূপ চ্যাটার্জী (রুপা) ৬২ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন। যাবার সময় বৃদ্ধা মা, দাদা, বৌদি, দিদি, ভাইপো ও অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও তাঁর গুণমুগ্ধ কমরেডদের রেখে গেলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি শ্বাসকষ্ট ও হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। ৩ মার্চ নার্সিংহোমে ভর্তি হওয়ার পর ৪ মার্চ সকালে পরপর দু’বার হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর আইসিসিইউ থেকে ভেন্টিলেশনে দিলেও চিকিৎসায় আর কোনো সাড়া দেননি।

৮০-র দশকের প্রারম্ভে তিনি পার্টির সংস্পর্শে আসেন। তাঁর দাদা আগেই পার্টির সদস্য ছিলেন। ঐ সময় ঝুঁকি নিয়ে পার্টির অনেক গোপন মিটিং দাদার সাথে তিনি সংগঠিত করেন। কালীঘাট-চেতলা-ভবানীপুর আঞ্চলিক কমিটিকে সংগঠিত করতে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেন। টালিনালা বাসিন্দাদের উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলন আন্দোলন ও নাগরিক আন্দোলনে দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা পালন করেন। প্রতিরক্ষা দপ্তরে কর্মরত অবস্থায় এক সুবিধাবাদী বাম ট্রেড ইউনিয়নকে উচ্ছেদ করে নতুন বাম ট্রেড ইউনিয়ন গঠন এবং পরবর্তীতে তাঁর উপর আক্রমণ নেমে আসলে এক সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়ে সেই আক্রমণ প্রতিহত করতে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। এইভাবে তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগের পূর্বাঞ্চলের জনপ্রিয় নেতা হিসেবে সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা পালন করেন। অঞ্চলের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে নেতৃত্বকারী ভূমিকা পালন করেছেন।সব সময় একটা অঞ্চলে লেগেপড়ে থেকে কাজ করে সেখান থেকে বিস্তার ঘটানোর কথা বলতেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সমস্ত কাজকে কেন্দ্রীভূত করার কথা বলতেন। পার্টির বিভিন্ন নীতি ও কৌশল পরিবর্তন হলে তা আয়ত্ত করে, সমর্থন ও প্রচার করতেন ও কমরেডদের সহজভাবে বুঝিয়ে দিতেন। মার্কসবাদের উপর গভীর জ্ঞান, চারপাশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা ও বিশ্লেষণ করার সহজাত ক্ষমতা তাঁর ছিল। সবাইকে মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন, তাই তাঁর অন্তিম যাত্রায় কমরেডদের সাথে-সাথে ব্যাপক সাধারণ মানুষ সামিল হন। তিনি আমাদের মধ্যে তার কাজের মাধ্যমেই বেঁচে থাকবেন।

খণ্ড-27
সংখ্যা-7