খবরা-খবর
মোমবাতি জ্বালিয়ে গানে, কবিতায় কথায় স্বজন হারানোর শোক পালন
Mourning the loss of relatives

গত দেড় বছরে মোদী সরকারের ভ্রান্ত স্বাস্থ্যনীতির জেরে মুখ থুবড়ে পড়া চিকিৎসা ব্যাবস্থার কবলে পরে প্রয়াত হয়েছেন, হয়ে চলেছেন আমাদের সহ নাগরিক সহযোদ্ধারা। মোদী একদিকে দেশের মানুষদের আত্মনির্ভর হতে বলছেন। অন্যদিকে আত্মনির্ভর চিকিৎসা পরিকাঠামোর বেআব্রু ছবি দিন-প্রতিদিন চোখে আসছে। কখনো গঙ্গায় মৃতদেহের মিছিল, কখনো অক্সিজেনের অভাবে রুগী ধুঁকছে। হাসপাতালগুলোতে শুধুই স্বজন হারানোর আর্তনাদ। আমরা সমস্ত না পাওয়াগুলোকে, শোককে মনে রাখার জন্য কোভিড মহামারীতে  হারিয়ে ফেলা আত্মজনের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর  সংকল্পে একুশের ডাকে সাড়া দিয়ে রাজ্যের অন্যান্য জায়গার সাথে সাথে ১৩ জুন রবিবার শিলিগুড়ি হাসপাতাল সংলগ্ন শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সামনে মোমবাতি জ্বালিয়ে গানে, কবিতায় কথায় স্বজন হারানোর শোক ভাগ করে নিলাম উপস্থিত সহনাগরিকদের সাথে। হাতে ধরা পোস্টারে দাবি জানানো হলো সকলের  জন্য, ফ্রি ভ্যাকসিন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যনীতি তৈরি করা সহ বেসরকারি চিকিৎসা ব্যাবস্থার লাগামহীন খরচের রাশ টানতে সরকারকে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উপস্থিত ছিলেন অভিজিৎ মজুমদার, ডাঃ অতনু রায়, ডাঃ সুধীন দাস, গৌতম চক্রবর্তী, প্রলয় চতুর্বেদী, মুক্তি সরকার, সাগর চতুর্বেদী, লক্ষ্মী দাস মোজাম্মেল হক, দীনবন্ধু দাস প্রমুখ। অপু চতুর্বেদীকে মনে রেখে মীরা চতুর্বেদীর লেখা কবিতা সহ স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন গৌতম চক্রবর্তী, মুক্তি সরকার।

একই দিনে শিলিগুড়ি শক্তিগড়েও এলাকার সহমর্মী মানুষেরা গানে কবিতায় স্মরণ করেন প্রয়াত সহনাগরিকের, সহযোদ্ধাদের। সমবেত গানে গলা মেলান সুশান্ত ঘোষ, মধুবন্তী বসু, সর্বানী দাশগুপ্ত। কবিতা পাঠ করেন সুশান্ত ঘোষ। মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা অর্পণ করা হয় সকলের প্রতি। শোকের বিহ্বলতাকে কাটিয়ে উঠে ক্রোধের আগুনকে সম্বল করে জনবিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সবকিছু মনে রাখা হবে -- সবকিছু -- এই শপথেই কর্মসূচি শেষ হয়। উপস্থিত ছিলেন এলাকার সহ নাগরিক সুশান্ত ঘোষ, সর্বানী দাশগুপ্ত, মধুবন্তী বসু, রজত বর্মণ, সোমা সেনগুপ্ত, মিলি ভট্টাচার্য, রমা সাহা, টুলু সাহা, রাজা সরকার, শাশ্বতী সেনগুপ্ত প্রমুখ।

দু’জায়গাতেই সহমর্মী মানুষদের উপস্থিতি ছিলো উল্লেখযোগ্য।

খণ্ড-28
সংখ্যা-22