সারা ভারত কিষাণ মহাসভার প্রেস বিবৃতি
All India Kisan Mahasabha

কৃষক বন্ধু প্রকল্পে চাষিদের খয়রাতি সাহায্য পাঁচ হাজার টাকা বাড়ানো হলো —

চাষির আয় কিন্তু বাড়ছে না। ভাগচাষি ও কৃষি শ্রমিকদের প্রতি চলছে সীমাহীন বঞ্চনা।

রাজ্যের তৃণমূল সরকার “কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পে চাষিদের বছরে পাঁচ হাজারের বদলে দশ হাজার টাকার খয়রাতি সাহায্য ঘোষণা করেছে। কিন্তু চাষির আয় “তিন গুণ’ করার সরকারি প্রতিশ্রুতি আদৌ রূপায়িত হচ্ছে না। চাষিরা ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে অভাবী বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। যেমন গ্রামাঞ্চলে এক কুইন্টাল ধান বিক্রি হচ্ছে ১১০০-১২০০ টাকায়, অথচ সরকারি দর ১৮৬৫ টাকা (আরও ৭০ টাকা বেড়েছে যা আগামী মরশুম থেকে কার্যকরী হবে), অর্থাৎ চাষিদের লোকসান কুইন্টাল পিছু ৬০০-৬৫০ টাকারও বেশি। বিপরীতে সার, বীজ, বিদ্যুৎ-র দাম অর্থাৎ চাষের খরচের বিপুল বৃদ্ধি হয়ে চলেছে। তাহলে চাষিদের হাতে রইলো কি? দেশব্যাপী চাষিদের যে দাবি আজ স্বীকৃতি পেয়েছে তা হলো উৎপাদিত ফসল উৎপাদন খরচের দেড়গুণ দামে কিনতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণে কারচুপি করে চাষিদের ঠকাচ্ছে। যথা ধানের কুইন্টাল পিছু ন্যূনতম সহায়ক মূল্য হওয়া উচিত ২৩৫০ টাকা, অথচ কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে ১৮৬৫ টাকা! অপরদিকে রাজ্য সরকার ফসল কেনার কোনও পরিকাঠামো গড়ে না তুলে চাষিদের অভাবী বিক্রির পথে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে চাষিরা বিপুল লোকসানে ব্যবসায়ীদের কাছে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের খয়রাতি সাহায্য সেই লোকসানকে আদৌ পূরণ করছে না। তাই আওয়াজ উঠেছে যৎসামান্য দান খয়রাতি নয়, ফসলের প্রকৃত সংগ্রহ মূল্য গ্যারান্টি করো, কম দামে ভর্তুকি দিয়ে সার বীজ বিদ্যুৎ সরবরাহ করো। দিল্লীর চলমান কৃষক আন্দোলনে এটা অন্যতম প্রধান দাবি।

এ রাজ্যে এক একরের ঊর্ধ্বে জমির মালিক কৃষকদের ১০ শতাংশেরও কম, যারা কৃষক বন্ধু প্রকল্পে ১০ হাজার টাকা পাবে। বাস্তবে অকৃষক জমির মালিকদের বড় অংশ এই টাকা পাবে। অথচ সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষুদ্র প্রান্তিক চাষিরা পাবে বছরে যৎসামান্য চার হাজার টাকা। এ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ ভাগচাষি, অনথিভুক্ত চুক্তি চাষিরা সম্পূর্ণ বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। সর্বোপরি গ্রামের কৃষি ও অন্যান্য মজুররা কোনরকম সরকারি সহায়তাই পাচ্ছে না। এই লকডাউনের কর্মহীন পরিস্থিতিতে ১০০ দিনের প্রকল্প বন্ধ। তাই সারা ভারত কিষাণ মহাসভা দাবি জানাচ্ছে ন্যায্য দরে সমস্ত ফসলের সরকারি ক্রয় নিশ্চিত করো। ধান কেনার জন্য টাকা বরাদ্দ করো, গ্রামে দুয়ারে দুয়ারে ধান কেনার ব্যবস্থা করো, নথিভুক্ত অনথিভুক্ত ভাগ চাষিদের সরকারি প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সমস্ত জবকার্ডধারী গ্রামীণ মজুরদের ৫০ দিনের মজুরী নগদে দিতে হবে। জবকার্ডধারীরা বা গ্রামীণ শ্রমিকরা ‘৫০ দিন কাজ করেছেন’ ধরে নিয়ে সেই মজুরি লকডাউন পরিস্থিতিতে আশু ত্রাণ হিসাবে প্রদান করতে হবে। এই মর্মে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠাচ্ছে সারা ভারত কিষাণ মহাসভা।

ধন্যবাদান্তে,

অন্নদা প্রসাদ ভট্টাচার্য, রাজ্য সভাপতি এবং

জয়তু দেশমুখ, রাজ্য সম্পাদক, সারা ভারত কিষাণ মহাসভা

খণ্ড-28
সংখ্যা-22