প্রতিবেদন
বিপর্যস্ত প্রকৃতি: বিপন্ন পৃথিবী
endangered world

এবছর অক্টোবর মাসে আমরা একের পর এক নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে দেখলাম, যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে লাগাতার বৃষ্টিপাত হয়ে চলল। পরিণামে বন্যা, কৃষি জমির সমুদ্রের নোনা জলের নীচে চলে যাওয়া, ফসল নষ্ট, ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির মতো ঘটনাগুলোও ঘটল। এবছরে প্রকৃতিকে উত্তরাখণ্ডেও অত্যন্ত রুষ্ট রূপে দেখা গেল, প্রবল বৃষ্টিপাত ও ধ্বসে পাহাড় ঘেরা রাজ্যটা বিপর্যস্ত হল এবং পশ্চিমবাংলা থেকে যাওয়া অন্তত দশজন ট্রেকার ঐ বিপর্যয়ের শিকার হলেন। বুলবুল, আমপান, ইয়াসের মতো ঘূর্ণিঝড়ের হানাদারিও নিয়মিত পরিঘটনা হয়েই দেখা দিচ্ছে। যেগুলো ‘অস্বাভাবিক’ প্রাকৃতিক ঘটনা বলে বিবেচিত হত, সেগুলোরই ‘নিয়ম’ হয়ে ওঠাটা ভয়াবহ এক আশঙ্কাকেই, পৃথিবীর অস্তিত্বের সংকটের দিকেই ইঙ্গিত করে। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়গুলো শুধু পশ্চিমবাংলার, ভারতের বা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের উদ্বেগের বিষয় নয়। দুনিয়া জুড়েই এখন এসবের প্রবল আবির্ভাব এবং এগুলোর সঙ্গে যে জলবায়ু পরিবর্তনের যোগ তাও এক অবিসংবাদী বাস্তবতা। প্রকৃতি বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের ভাবনা ও গবেষণা প্রকৃতির এই উগ্ৰ আচরণের পিছনে কারণ হিসাবে খুঁজে পেয়েছে বিশ্ব উষ্ণায়ণকে। এবং এই উষ্ণায়ণের প্রশমন ছাড়া, পৃথিবীর বেড়ে চলা তাপমাত্রায় রাশ টানা ছাড়া পৃথিবীর বাঁচার, তার টিঁকে থাকার অন্য কোনো পথ যে নেই সেই স্বতঃসিদ্ধতা এখন প্রতিষ্ঠিত। আর তাই ১৯৯৭’র ডিসেম্বরের কিয়োটো প্রোটোকলের পর থেকে নিয়মিতভাবেই রাষ্ট্রপুঞ্জের তত্ত্বাবধানে হয়ে চলেছে জলবায়ু পরিবর্তন কেন্দ্রিক, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে রাশ টানা নিয়ে আলোচনা। বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি বা পার্টি এই সমস্ত আলোচনায় অংশ নেন, গ্ৰিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণে অগ্ৰগতি কি আদৌ ঘটে? এবছরেও রাষ্ট্রপুঞ্জের তত্ত্বাবধানে ১ নভেম্বর থেকে স্কটল্যাণ্ডের গ্লাসগোয় শুরু হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত আলোচনা যা চলবে দু’সপ্তাহ ধরে। ১২০টির বেশি দেশের প্রায় ২৫,০০০ পরিবেশবিদ, বিজ্ঞানী, রাষ্ট্রপ্রধান, পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী ও অন্যান্যরা জড়ো হচ্ছেন গ্লাসগো শহরে, পরিবেশ সম্মেলনে অংশ নিতে। এই প্রতিবেদন লেখা যখন চলছে, গ্লাসগোয় আলোচনা তখনও জারি রয়েছে। কাজেই, সেখান থেকে চূড়ান্ত ফয়সালা কি বেরিয়ে আসছে তা জানতে এখনও কয়েক দিন বাকি। তবে, সেখানের চর্চায় গুরুত্ব পাওয়া বিষয়গুলোর দিকে আমরা দৃষ্টিপাত অবশ্যই করতে পারি।

রাষ্ট্রপুঞ্জের অভিধা অনুযায়ী গ্লাসগো সম্মেলনের পরিচয় হল সিওপি২৬ — কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ ২৬। সম্মেলনে যারা যোগ দিচ্ছে তারা সবাই পার্টি, আর এবারেরটা তাদের ২৬ নম্বর সম্মেলন। গ্লাসগো সম্মেলনকে ২০১৫’র প্যারিস সম্মেলনের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চক্র বলে মনে করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন যে মাত্রা অর্জন করেছে এবং তার পরিণামে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানেই প্রকৃতির ঘটানো যে বৈপরীত্যমূলক ও চরম রূপের ঘটনাগুলো দেখা যাচ্ছে, সেটাই বোধকরি গ্লাসগো সম্মেলনের গুরুত্ব পাওয়ার এমন কারণ। খরা ও বন্যা, দাবদাহ ও শৈত্যপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড় ও দাবানল, প্রবালপ্রাচীরের ধ্বংস, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া, সমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি — এই সমস্ত প্রাকৃতিক ঘটনাবলীর প্রাবল্য অবশ্যই নিষ্ক্রিয়তা পরিহার করে সচেতনতা ও সক্রিয়তার দাবি জানায়। রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষজ্ঞদের অভিমত — যেটাতে পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানীরাও সহমত —পৃথিবীকে রক্ষা করতে হলে, প্রকৃতিকে বাঁচাতে গেলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে শিল্প যুগের শুরুর আগের সময়ের তাপমাত্রার চেয়ে ২ ডিগ্ৰি সেলসিয়াসের বেশি করলে চলবেনা। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ১.১ ডিগ্ৰি সেলসিয়াস বৃদ্ধির বর্তমান স্তর থেকে শতাব্দীর শেষ নাগাদ ঐ বৃদ্ধিকে ১.৫ ডিগ্ৰি সেলসিয়াসের মধ্যে বেঁধে রাখতে পারলেই আরো মঙ্গল। আর গ্ৰিনহাউস গ্যাসই যেহেতু তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটায়, তার উৎপন্নের উৎস কয়লা ও পেট্রল-ডিজেলের মতো জীবাষ্ম জ্বালানির নিয়ন্ত্রণ ও সেগুলোর প্রয়োগ যথেষ্ট মাত্রায় কমালে তবেই ঐ লক্ষ্য পূরণ সম্ভব। রাষ্ট্রপ্রধানরা যে প্রতিশ্রুতি দেন তা পূরণে অনীহা দেখা যায়, এবং বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যে-সমস্ত প্রতিশ্রুতি রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে পাওয়া গেছে সেগুলো পালন হলেও এই শতকের শেষ নাগাদ পৃথিবীর তাপমাত্রা শিল্প পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে বাড়বে ২.৭ ডিগ্ৰি সেলসিয়াস, নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যা খানিকটা বেশি। পৃথিবীর অস্তিত্বের বিপন্নতাই কি তবে ভবিতব্য? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অনিবার্যতাকে খণ্ডন করতে হলে এই শতকের মাঝামাঝি, ২০৫০ সালের মধ্যে নেট-জিরো লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো জরুরি। নেট-জিরো বলতে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণকে শূন্যে বেঁধে রাখাটা বোঝানো হচ্ছে। কয়লা, পেট্রল-ডিজেলের মতো জীবাষ্ম জ্বালানির ব্যবহারের পরিমাণ এমন হতে হবে যেন সেগুলোর দহনের মধ্যে দিয়ে বের হওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইড বিদ্যমান ব্যবস্থায় নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে — গাছ, মাটি, সাগরের মতো যে আধারগুলো কার্বন গ্ৰহণ করে, সেগুলো যেন নিঃসরণ হওয়া ঐ পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে শুষে নিতে পারে।

গ্ৰিনহাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণে দায় কাদের বেশি এবং পরিমণ্ডলে এর জোগানের হ্রাসে আন্তরিকতা ও সক্রিয়তা কাদের বেশি দেখানো উচিত? এর উত্তরটা একেবারেই জটিল নয় — যারা অনেক কাল ধরে কয়লা এবং পেট্রল-ডিজেল বেশি পুড়িয়ে, গ্যাস বেশি ব্যবহার করে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটিয়েছে, এই বিষয়ে দায়িত্ব অবশ্যই তাদের বেশি। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, পৃথিবীতে যত গ্ৰিনহাউস উৎপন্ন হয় তার ৮০ শতাংশই সৃষ্টি করে জি-২০’র অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো, বিশেষভাবে চীন, আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, রাশিয়া ও জার্মানির অর্থনীতি। কিন্তু কার্বন উৎপাদনকে হ্রাস করতে, অর্থাৎ, নিজেদের অর্থনীতিকে নতুন ধারায় চালিত করতে এরা কতটা রাজি হবে? চীন বলছে, তারা গ্ৰিনহাউস গ্যাস উৎপন্নের শীর্ষে পৌঁছাবে ২০৩০ সালে, তার পর থেকে কয়লা, পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহারকে ক্রমান্বয়ে কমিয়ে এনে নেট-জিরো লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছবে ২০৬০ সালে। তাদের কাছে দাবি করা হচ্ছে, তারা যেন নেট-জিরোর স্তরে পৌঁছায় আরো দশ বছর আগে ২০৫০ সালে। সেই দাবির প্রতি অঙ্গীকারের কোনো প্রতিশ্রুতি তারা দেয়নি। আমেরিকাই এখনও পর্যন্ত পরিমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি গ্ৰিনহাউস গ্যাসের জোগান দিয়েছে, এবং আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো, গ্ৰেট ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া জলবায়ু পরিবর্তনের মূল সংঘটক। পৃথিবী ও প্রকৃতির রক্ষায় তাদের কি বেশি দায়িত্ব নিতে হবে না? কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, পরিবেশের সুরক্ষার স্বার্থে আমেরিকা ২০২৫’র মধ্যে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০৩৩’র মধ্যে নেট-জিরোয় পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করুক। কিন্তু এবিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া তাদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না।

Disrupted nature

 

গ্ৰিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের উৎসেই নিয়ন্ত্রণ — পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির রোধে এই রণনীতি নিয়ে প্রশ্নের কোনো অবকাশ থাকতে পারে না। কিন্তু এর সঙ্গেই যে প্রশ্নটা মাথাচাড়া দেয় তা হল — এরজন্য বড় অর্থনীতিগুলোতে প্রচলিত ব্যবস্থা তথা চালু অর্থনৈতিক মডেলটাকে পাল্টানোর প্রয়োজনীয়তা কি অপরিহার্য নয়। ঐ দেশগুলো ধনতন্ত্র চালিত এবং সেই অর্থনীতিতে কর্পোরেটদের প্রাধান্য এক অবিসংবাদী বাস্তবতা। এক সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে, গত তিন দশকের বেশি সময়কালে পৃথিবীর পরিমণ্ডলে যত গ্ৰিনহাউস গ্যাস পাঠানো হয়েছে তাতে ৭০ শতাংশ অবদান হল ১০০টি কর্পোরেট সংস্থার। গ্ৰিনহাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণে কর্পোরেটরা শুভবুদ্ধি ও মুনাফা ত্যাগী মানসিকতা দেখাবে ধরে নিয়ে তাদের ওপর ভরসা করার দিকেই কি আমরা এগিয়ে যাব? এরচেয়ে ভিত্তিহীন অবলম্বন আর কিছু হতে পারে না। প্রেসিডেন্ট হওয়ার চার মাসের মধ্যেই ট্রাম্প যখন প্যারিস চুক্তি থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে নেন এবং তার পিছনে যুক্তি হিসাবে দেশের অর্থনীতির ক্ষতির কথা বলেছিলেন, তাঁর বিবেচনায় কর্পোরেট স্বার্থই অগ্ৰাধিকার পেয়েছিল। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাইডেন আমেরিকাকে পুনরায় প্যারিস চুক্তিতে শামিল করলেও তিনিও চলতি ধারার পন্থী এবং অর্থনীতিতে কর্পোরেট আধিপত্য হ্রাসের পক্ষানুরাগী নন। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গটা এইভাবে প্রচলিত ব্যবস্থার রূপান্তরণের অনিবার্যতাকে সামনে নিয়ে আসছে।

কার্বন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগে যেহেতু নির্দিষ্ট দেশের সরকারকে পদক্ষেপগুলো করতে হবে, আন্তর্জাতিক স্তরের আলাপ-আলোচনার সাথে সমস্ত দেশে গৃহীত ও প্রয়োগ হওয়া কর্মসূচিগুলির ভূমিকাও তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারতে আমরা এমন একটা সরকারকে শাসন ক্ষমতায় দেখছি যাদের কাছে পরিবেশ সুরক্ষার চেয়ে কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষা বেশি গুরুত্ব পেয়ে থাকে। গ্লাসগোয় মোদী সূর্য থেকে শক্তি আহরণের পরামর্শ দিয়েছেন। দেশে চালু করা ‘নলকে জল’, ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’, ‘উজ্জ্বলা’ প্রকল্পর উল্লেখ করে সরকারের পরিবেশ প্রীতির পরিচয় রাখতে সচেষ্ট হয়েছেন। কিন্তু দেশে বনভূমির ওপর কর্পোরেটদের দখলকে অনায়াস করতে বন ও পরিবেশ আইনকে লঘু করে তুলছে তাঁর সরকার। নিরবচ্ছিন্নভাবে চালানো হচ্ছে বেসরকারিকরণের ধারা। মোদীর ধারণায় কর্পোরেটরা হল ‘সম্পদ স্রষ্টা’, আর সেই সৃষ্টিকে মসৃণ করতে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, বনভূমি তুলে দেওয়া হচ্ছে তাদের হাতে। এইভাবে জল-জমি-জঙ্গল লুট হয়ে যাওয়ার মূল হোতা হয়ে উঠছে সরকার নিজেই। তবে, শুধু নরেন্দ্র মোদীর সরকারই নয়, বিভিন্ন দেশের সরকারের অনুসরণ করা ‘উন্নয়ন’ মডেল পরিবেশের প্রতি বৈরিতা দেখাচ্ছে।

পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কিছু প্রতিশ্রুতি সম্মেলন থেকে উঠে এসেছে। গ্ৰিনহাউস গ্যাস মিথেনকে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০২০’র স্তর থেকে ৩০ শতাংশ হ্রাসের কথা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২০৪০ সালের মধ্যে কয়লা পুরোপুরি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ৪০টি দেশ। অন্য দেশে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে আর্থিক সহায়তা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন ও আরো কয়েকটা দেশ। আবার, বন বিনাশের প্রতিশ্রুতিও কয়েকটা দেশের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। এগুলো সবই প্রতিশ্রুতি, সেগুলোর রূপায়ণ কতটা হয় তা আমাদের নজরে রাখতে হবে। এরআগে দেওয়া বহু প্রতিশ্রুতি শূন্যগর্ভ শব্দ হয়েই রয়ে গেছে যা সাধারণ জনগণের মধ্যে হতাশা ও অনাস্থার মনোভাবের জন্ম দিয়েছে। পরিবেশ কর্মী সুইডিশ তরুণী গ্ৰেটা থুনবার্গ রাষ্ট্র নেতাদের নিষ্ক্রিয়তার, জনগণের বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে কপট হাবভাবের সমালোচনা করেছেন। থুনবার্গ এবং পরিবেশ আন্দোলনের অন্যান্য কর্মী রাষ্ট্রনেতাদের শূন্যগর্ভ প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে গ্লাসগোর পার্কে প্রতিবাদ আন্দোলনেও শামিল হয়েছেন। গ্লাসগো সম্মেলনকে থুনবার্গ “শূন্যগর্ভ প্রতিশ্রুতি দিয়ে সবুজ সাফের উৎসব” বলেও বর্ণনা করেছেন। এটা অতএব স্পষ্ট হয়ে দেখা দিচ্ছে যে, পরিবেশকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে ও তুলছে যে ব্যবস্থা তাকে অটুট রেখে তারমধ্যেই পরিবেশকে বাঁচানোর রাস্তা খোঁজাটা নিরর্থক প্রয়াস ছাড়া অন্য কিছু নয়। জনগণের সচেতনতা, তাদের উদ্যোগ, প্রতিবাদই হতে পারে পরিবেশ রক্ষার, পৃথিবীকে বাঁচানোর নির্ধারক শর্ত। চলমান ব্যবস্থাকে পাল্টানোর সচেতনতা সক্রিয়তাই রাষ্ট্রকে কার্বন শূন্যতার পথে অঙ্গীকারবদ্ধ করতে পারে।

- জয়দীপ মিত্র

খণ্ড-28
সংখ্যা-39