খবরা-খবর
ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজ এক হোন
Civil society unite

১৪ ডিসেম্বর কল্যাণী মেইন ষ্টেশনের সম্মুখে বিকেল চারটের সময় ‘সেভ পাবলিক সেক্টর’ ব্যানারে ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণ রুখতে আগামী ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বরের ধর্মঘট সফল করতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে ব্যবস্থা, অর্থাৎ দেশের সরকারি ব্যঙ্ক ব্যবস্থাকে কেন্দ্রের মোদী সরকার বেপরোয়াভাবে দ্রুত বেসরকারিকরণের পথে নিয়ে যাচ্ছে।কেন্দ্রের বর্তমান বিজেপি সরকার এবং তার আগের কংগ্রেসের মনমোহন সিং-এর সরকারের সাথে দেশ-বিদেশের বড় বড় পুঁজিপতি গোষ্ঠী ও উচ্চশ্রেণীর ধনী ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিদের এক অশুভ বোঝাপড়ার ফলাফল হিসাবে আজ ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের বিপদের মুখে পড়েছে। এই বোঝাপড়ার মধ্যে শক্তিশালী কর্পোরেট ও ব্যক্তিদেরকে গত ২০০৮-০৯ থেকে ২০২০-২১-এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার দেশের বিভিন্ন সরকারি ব্যঙ্কগুলি থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ ৪৮ হাজার কোটি টাকা ঋণের নামে পুরোপুরি দিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। শিল্পপতিরা এই বিপুল টাকা ফেরত দেয়নি। এই অনাদায়ী ঋণের ভারে সরকারি ব্যঙ্কগুলো ধুঁকছে। বক্তারা বলেন, বিজেপি সরকার শীতকালীন অধিবেশনে পেশ করতে চলেছে ‘ব্যঙ্ক আইন (সংশোধনী) বিল, ২০২১’, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ অহমিকায় এই কালা বিল পাস করতে চায়।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যঙ্ক ও সেন্ট্রাল ব্যঙ্ক অব ইন্ডিয়া বিজাতীয়করণ করা হবে। এর ফলে ব্যঙ্কে রাখা সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের টাকা এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। এতদিন দেশের সাধারণ মানুষেরা সরকারি ব্যঙ্ক ব্যবস্থার সুবাদে তাদের নিরাপদে রাখা কষ্টের টাকা, ব্যঙ্কের স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়া, সহজে লেনদেন ইত্যাদির সুযোগ পেতেন। কোটি কোটি মানুষের খুচরো ব্যবসা, অন্নদাতা কৃষকদের সহজে ঋণ পাওয়া ইত্যাদি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের সহযোগিতায় হয়ে আসছিল। তার উচ্ছেদ ঘটিয়ে দেশের সরকারি ব্যঙ্কগুলোকে আদানি, আম্বানিদের মতো বড়ো বড়ো দেশি-বিদেশি কর্পোরেট পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। বিশ্বাসঘাতক, প্রতারক রাজনৈতিক দল বিজেপি ও তার সরকারের যোগসাজশে বৃহৎ কর্পোরেট পুঁজিপতিদের কাছে দেশকে অর্থনৈতিক পরাধীনতার দিকে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্তকে রুখতে আমাদের এই মুহূর্তে ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে দিকে দিকে নাগরিক জোট, গণজোট গড়ে তোলা দরকার।

সভায় বক্তব্য রাখেন দেবজ্যোতি মজুমদার (অবসরপ্রাপ্ত ব্যঙ্ককর্মী), সন্তোষ সেন (পরিবেশ কর্মী), বিবর্তন ভট্টাচার্য (পরিবেশ কর্মী), রবি সেন (অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী), শুভাশীষ গাঙ্গুলী (অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মী), শম্ভু ব্যানার্জি (এআইসিসিটিইউ)। সভা সঞ্চালনায় অনুপম পাল (অবসরপ্রাপ্ত ব্যঙ্ককর্মী)। ব্যঙ্ক বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে আগামী ১৬-১৭ ডিসেম্বর সর্বাত্মক ব্যঙ্ক ধর্মঘট সফল করতে সর্বস্তরের নাগরিকদের সহযোগিতার সোচ্চার আহ্বান জানিয়ে সভা শেষ হয়। এছাড়াও সর্বাত্মক ব্যঙ্ক ধর্মঘট সফল করার আহ্বান সহ বারাসাত-মধ্যমগ্রামে প্রচার সংগঠিত করা হয়। অংশগ্রহণে ছিলেন গণপ্রতিরোধ মঞ্চ (বারাসত), ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রামী মঞ্চ (বারাসাত), বন্দীমুক্তি কমিটি (উত্তর চব্বিশ পরগণা), আইসা এবং এআইপিএফ-এর সংগ্রামী সাথীরা।

খণ্ড-28
সংখ্যা-44