‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্প ও সমস্ত সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রেই গরিব কৃষকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে
Poor farmers

মুখ্যমন্ত্রী গত কৃষ্ণনগর প্রশাসনিক বৈঠক ও বিভিন্ন বক্তব্যে বলে যাচ্ছেন তিনি ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেছেন এবং ক্ষেত মজুরদের ও অনুদানের ব্যবস্থা করেছেন। কিন্ত বাস্তব হল ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পে এক একর এর বেশি জমি আছে তারাই একমাত্র এক কিস্তিতে ৫০০০ টাকা অনুদান পেয়েছেন, যদি ঠিক মতো জমির কাগজ পত্র জমা দিতে পেরেছেন। আর একবার ৫০০০ টাকা পেয়ে বছরে ১০হাজার পাওয়া যাবে বলা হচ্ছে। আবার এমনও হতে পারে অন্যান্য অনেক প্রকল্পের মতো কিছুদিন পর বন্ধ করে দিয়ে নির্বাচনের প্রচারের জন্য নতুন নতুন প্রকল্পের আওয়াজ শোনা যেতে পারে। আর এক একরের কম জমি আছে এমন কৃষকরা জমির কাগজ পত্র জমা দিয়ে আবেদন করলে তাকে এক কিস্তিতে ২০০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। আর এক কিস্তিতে ২০০০ টাকা দিয়ে মোট বছরে ৪০০০ টাকা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তার মানে জমির কাগজপত্র না থাকলে জমি চাষ করলেও কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুযোগ পাবেন না।

পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের যারা নিজেরাই জমিতে হাত লাগিয়ে উৎপাদন করেন তারা সংখ্যাগরিষ্ঠই এক একরের কম জমির মালিক। এই কৃষকরা ঐবছরে ৪০০০ টাকার বেশি পাবেন না অর্থাৎ এক একরের এক শতক কম হলেই ৪ হাজার আর এক শতক বেশি হলেই ১০হাজার টাকা এটাও অসামঞ্জস্য। আবার জমি চাষ না করে জমির মালিক হয়ে অনেক সময় শুধু কাগজের মালিক হয়েই অনুদানের টাকা পেয়ে যাচ্ছে। আর ব্যাপক সংখ্যক অনথিভুক্ত ভাগচাষি, লিজ-চাষি ও পাট্টাহীন গরিব কৃষক এই প্রকল্পের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই সমস্ত গরিব কৃষকরা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, শস্য বিমা এবং কৃষক বন্ধু প্রকল্প বা কৃষক সন্মান যোজনা সমস্ত ধরনের সরকারী প্রকল্পের সুযোগ থেকেই বঞ্চিত। অথচ এই সব কৃষকদের চাষ করতে যেহেতু নিজের কৃষি উপকরণ থাকে না তাই সেচ থেকে সব কিছুই অন্য থেকে বেশি মূল্যে ভাড়া নিতে হয়। কালোবাজারি মূল্যে সার কিনতে হয়। জমির লিজ খাজনা দিতে হয়। পায় না সরকারী সহায়ক মূল্যের সুযোগ। অথচ এদের উপরই কৃষি-উৎপাদন অনেকটাই নির্ভরশীল। এরাই ক্ষেতমজুর দের বড় অংশ। নিজের শ্রমই এদের পুঁজি। এদের জন্য সরকারি বরাদ্দ ১০০ দিনের৷ কাজ, তাও ঠিক মতো কাজ দেওয়া হয় না। কাজ দিলে মজুরি কম দেওয়া হয়। আবার দুর্নীতিও চলছে। এই সব পরিবারের যুবকদের কাজের অভাবে প্রতিনিয়ত কাজের সন্ধানে বাইরে যেতে হয়। এই স্তরের মানুষের সমস্যা বেশি। এই স্তরের মানুষকে সরকারি প্রকল্পের সুযোগ পাওয়ার ব্যবস্থা না হতে করে মুখ্যমন্ত্রী কাদের ক্ষেতমজুর বলছেন জানি না সাধারণভাবে যাদের ক্ষেতমজুর বলা হয় তাদের কিভাবে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হবে সেই ব্যাপারে সরকারের কোনও সার্কুলার নেই। তাই এই শ্রেণীর দাবির আন্দোলনকে শক্তিশালী করাই আজকের সময়ের দাবি।

- সজল পাল

খণ্ড-28
সংখ্যা-44