বিবৃতি
পাঁচ রাজ্যে নির্বাচনী ফলাফল প্রসঙ্গে সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের বিবৃতি
 Assembly Election Results

উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, গোয়া এবং মণিপুর — এই চারটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় ফিরেছে। পাঞ্জাবে, কংগ্রেসের মূল‍্যে তো বটেই, আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে অকালি দলের মূল্যে, পরিবর্তনের জনপ্রিয় মেজাজের একমাত্র সুবিধা পেয়েছে এবং জিতেছে আম আদমি পার্টি। এটি পরিবর্তনের জনপ্রিয় প্রত্যাশার গভীরতাকে প্রতিফলিত করে, যা পাঞ্জাবের কৃষক আন্দোলনের দ্বারা নতুনভাবে উদ্দীপিত হয়ে উঠেছিল।

উত্তরাখণ্ডে, নির্বাচনের কয়েক মাস আগে বিজেপি তার মুখ্যমন্ত্রী বদল করে এবং তিনিও নির্বাচনে হেরে যান। কিন্তু উপদলে বিভক্ত কংগ্রেস কোনও জোরালো নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা খাড়া করতে ব‍্যর্থ হয় আর বিজেপি কয়েকটি আসন হারিয়েও শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রাখে। গোয়াতে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অল্প দূরত্বে ২০টি আসন নিয়ে একক বৃহত্তম দল হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে এবং মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টি এবং তিনজন নির্দল বিধায়কের সমর্থনে সরকার গঠন করবে।

উত্তরপ্রদেশে, বিজেপি নেতারা এবং প্রার্থীরা প্রকাশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার, উস্কানিমূলক বক্তৃতা এবং এমনকি ভোটারদের হুমকি প্রদান করে আদর্শ আচরণবিধিকে উপহাস করেছে। আর নির্বাচন কমিশন নীরব দর্শক হয়ে থেকেছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও, সমাজবাদী পার্টি-রাষ্ট্রীয় লোকদল জোটের ভোট ও আসন বৃদ্ধি রাজ্যে জনতার ক্রমবর্ধমান অসন্তোষকে দেখিয়ে দেয় যদিও ভোটে তা সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত হয়নি। বিরোধী ভোটের বিভাজন এবং রাজ্যজুড়ে বিএসপি’র ভোটের বিশাল অংশ তাদের পক্ষে যাওয়ায় বিজেপি স্পষ্টতই উপকৃত হয়েছে।

যদিও বিজেপি কৃষি আইন বাতিল করে কৃষক আন্দোলনের প্রভাবকে সীমিত করতে পেরেছিল, তথাপি মুজাফ্ফরনগর দাঙ্গার অনেক অপরাধীর পরাজয় স্বস্তিদায়ক।

আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে গত পাঁচ বছরে, বিশেষ করে মহামারীর সময়কালে ইউপি’তে একটি গতিশীল এবং সংগ্রামী বিরোধী দলের অভাব ছিল। সিএএ-বিরোধী আন্দোলন, কৃষকদের আন্দোলন এবং কর্মসংস্থান ও ন্যায়বিচারের জন্য যুব, কর্মচারী ও প্রকল্প কর্মীদের সংগ্রাম প্রকৃত বিরোধীর ভূমিকা পালন করেছিল। এটা প্রত্যাশিত যে এই নির্বাচনের ফলাফল ইউপি বিধানসভার অভ‍্যন্তরে আরও সক্রিয় এবং গতিশীল বিরোধী দল এবং রাস্তায় জনগণের দাবিতে আরও জোরালো আন্দোলনের পথ খুলে দেবে।

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে উৎসাহিত হয়ে মোদী সরকার এবং সঙ্ঘ-বিজেপি বাহিনী তাদের ফ্যাসিবাদী আক্রমণকে আরও জোরদার করবে। গণতন্ত্রের শক্তিকে বৃহত্তর ঐক্য ও দৃঢ়তর সংকল্পের সাথে এই আক্রমণকে মোকাবিলা করতে হবে।

- কেন্দ্রীয় কমিটি, সিপিআই(এমএল) লিবারেশন

খণ্ড-29
সংখ্যা-11