ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণ : ধান্দাবাজ ব্যবসায়ীদের ঋণখেলাপিতে বিপর্যস্ত ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে শোধরানোর অজুহাতে ব্যাঙ্ক ব্যবস্থাকে বেসরকারিকরণের চক্রান্ত

দেশের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন তুললেই দেশদ্রোহী বলে চিহ্নিত হতে হচ্ছিল, বলা হচ্ছিল দেশের শত্রুরা অযথা আতঙ্কের সৃষ্টি করছে। সব ঠিক আছে। দেশের অর্থনীতির চাকা গড়গড়িয়ে এগিয়ে চলেছে, কৃষকের কোনো সমস্যা নেই, কর্মস়ংস্থানের কোনো ঘাটতি নেই, কোনো শ্রমিক ছাটাই হচ্ছে না। কেবল কিছু গাড়ির বিক্রি কমেছে কারণ একবিংশ শতকের যুবকরা ওলা উবের চড়ছে। কিন্তু অর্থনীতি শক্তিশালী রয়েছে এই তত্বে ও তথ্যে সম্পূর্ণ, যাকে বলে ১০০ শতাংশ বিশ্বাসী অর্থমন্ত্রী গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করার প্যাকেজ বাজারে ছাড়তে শুরু করছেন। বাজেট পেশ ও পাশের মাস দেড়েক পর থেকে যখন অর্থমন্ত্রী বাজেটে ঘোষিত করগুলিকে পাল্টাতে থাকেন, বোঝা যায় অর্থনীতি নিয়ে আতঙ্ক কার, সরকারের না নিন্দুকের?

গত কয়েক সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী বেশ কয়েকটি ঘোষণা করেছেন, সবই প্রায় শেয়ার বাজারের দিকে তাকিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার মধ্যে একটি হল ১০টি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্ককে মিশিয়ে ৪টি বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কে রূপান্তর। আগস্টের ৩০ তারিখে, যখন প্রচার মাধ্যম চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের ফলের জন্য অপেক্ষা করছে, যে ফল সমস্ত আশা-নিরাশাব্যঞ্জক অনুমানকে ব্যর্থ প্রমাণ করে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হারকে ৫%-এ নামিয়ে আনবে, অর্থমন্ত্রী সেই বৃদ্ধির হারের অবনমনকে নস্যাৎ করার প্রচেষ্টায় ফল প্রকাশের আগেই ১০টি ব্যাঙ্কের একে অপরের সাথে মিশে ৪টি ব্যাঙ্কে রূপান্তরিত হওয়ার ঘোষণা করলেন। বলা হল এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। এর ফলে দেশের অর্থনীতি চাঙা হয়ে যাবে, ব্যাঙ্কগুলির যে সমস্যা তাও দূর হবে। এত কথা শুনেও শেয়ার বাজার কিন্তু সাড়া দিল না। ফলে ৩ সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবার ইতিহাস সৃষ্টি, কর্পোরেটর কর হারে বড় ছাড়। অপেক্ষা করলে প্রতি সপ্তাহে না হোক প্রতি মাসে ইতিহাস সৃষ্টি করবেন নির্মলাজী।

যে ১০টি ব্যাঙ্ককে একত্র করে ৪টি ব্যাঙ্ক গঠিত হতে চলেছে সেগুলি হল,

(ক) ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অফ কমার্স ও ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মিশে যাবে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের সঙ্গে। মনে রাখা দরকার নীরব মোদি পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের থেকেই কারচুপি করে ঋণ নিয়ে বিদেশে পালিয়েছে। এর ফলে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাঙ্ক হবে। মনে হয় মোদিকে ঋণ দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে।
(খ) সিন্ডিকেট ব্যাঙ্ক মিশে যাবে কানাড়া ব্যাঙ্কের সঙ্গে, তৈরি হবে ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম ব্যাঙ্ক।
(গ) কর্পোরেশন ব্যাঙ্ক ও অন্ধ্র ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন ব্যাঙ্কে মিশে গিয়ে পঞ্চম বৃহত্তম ব্যাঙ্ক হবে।
(ঘ) এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক মিশবে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের সঙ্গে, তৈরি হবে সপ্তম বৃহত্তম ব্যাঙ্ক।

এর আগেই মোদি সরকার স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে তার সহযোগী ব্যাঙ্কগুলি ও ভারতীয় মহিলা ব্যাঙ্ককে মিশিয়ে দিয়েছিল, এবং দেনা ব্যাঙ্ক ও বিজয়া ব্যাঙ্ককে ব্যাঙ্ক অফ বরোদার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। এভাবে ২০১৭ সালে থাকা ২৭টি রাষ্ট্রায়ত্ব ক্ষেত্রের ব্যাঙ্কের সংখ্যা কমিয়ে বর্তমানে মাত্র ১২ করে দেওয়া হয়েছে।

ব্যাঙ্কগুলিকে একত্র করার সময়েও অর্থনৈতিক মন্দার কথা স্বীকার করা হয়নি, বলা হয়েছিল যে, ৫ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতি ও এক লৌহদৃঢ় ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা সৃষ্টির জন্য এই পদক্ষেপ; এবং পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা গড়তে চাইছি, বৃহৎ ব্যাঙ্ক বর্ধিত ঋণ দিতে পারবে। তাহবিলে বেশি সম্পদ থাকায় একত্রিত ব্যাঙ্কগুলি ঋণের ব্যয় কমাতে পারবে ও ফলে ঋণ বেশি দিতে পারবে ফলে বৃদ্ধি বাড়বে।

দেশীয় ব্যাঙ্কগুলি বিদেশী বৃহৎ ব্যাঙ্কগুলির মাপের তুলনায় এতদসত্বেও অনেকটাই ছোট মাপের হবে। মনে রাখা দরকার ভারতের সর্ববৃহৎ ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মাপের দিক দিয়ে বিশ্বে ৫৪ তম। তাছাড়া উন্নত ঋণ সুবিধা প্রদান ও ব্যয় সঙ্কোচের সঙ্গে ব্যাঙ্কের পরিমাপের সম্পর্ক আছে বলে অর্থনীতিতে তেমন কোনো প্রমাণ নেই। তাছাড়া বৃহৎ ব্যাঙ্কের জন্য অধিক নিয়ন্ত্রণও লাগবে। আকারে বড় হলেই দক্ষতা বেশি হবে এমনটা না হলেও, অর্থনীতির বিভিন্ন অংশে ব্যাঙ্ক লাটে ওঠার প্রভাব অনেক বেশি হয় বৃহৎ ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে।

ঋণ চাহিদা ও বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি ও ঋণব্যয়ের হ্রাস ব্যাঙ্কগুলির সংযুক্তির মাধ্যমে আসবে এমন যুক্তিও ধোপে টেকে না। ব্যাঙ্ক সমূহের একত্রীকরণ কিছুতেই সামগ্রিক ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারে না। তাছাড়া বৃহৎ ঋণ প্রদানের ক্ষমতা তেমন কোনো ভালো ব্যাপার নয়, কারণ দেখা গেছে যে, অনুৎপাদক সম্পদের এক বড় অংশই অল্প কয়েকটি বৃহৎ কর্পোরেটদের দেওয়া বৃহৎ ঋণ।

যখন রেপো হার কমানো হয় এবং ব্যাঙ্কগুলিকে তাদের ঋণের উপর দেয় সুদের হারকে রেপোর সঙ্গে যুক্ত করতে উৎসাহিত করা হয় তখনও ব্যাঙ্কগুলি তা করতে রাজি হয় না। কারণ তারা উৎপাদক ঋণের থেকে অতিরিক্ত সুদ হাসিল করে অনুৎপাদক সম্পদের লোকসানকে পুষিয়ে নিতে চায়। তাই অর্থমন্ত্রীর উৎসাহ প্রদানের প্যাকেজের অন্যতম হল ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণের উপর সুদকে রেপো হারের সঙ্গে যুক্ত করানো।

ব্যাঙ্কগুলির সংযুক্তি ঋণের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পুঞ্জিত অনুৎপাদক সম্পদ (এনপিএ) যে সমস্যা তৈরি করে তাকে অতিক্রম করতে সাহায্য করবে বলে বলা হচ্ছে। একদিকে এনপিএ ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ প্রদানে নিরুৎসাহিত করে বিশেষত যে সমস্ত ক্ষেত্রে এনপিএ বেশি। দ্বিতীয়ত, এনপিএ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কর্তৃক নির্ধারিত অনুপাতের থেকে বেশি হলেই ব্যাঙ্কটির উপরে বিধি নিষেধ আরোপিত হয়।

যেহেতু সংযুক্তি এনপিএ-র পরিমাণকে কমায় না তাই ঋণের পরিমাণের উপরে তার প্রভাব সংযুক্তি পরবর্তী এনপিএ অনুপাতের উপর নির্ভর করবে। সেই অনুপাতটি একত্রিত হওয়া ব্যাঙ্কগুলির এনপিএ অনুপাতের একটি গড় হবে। ফলে, যে ব্যাঙ্কটির বেশি এনপিএ আছে তার তুলনায় সংযুক্তির পরে তৈরি ব্যাঙ্কটির এনপিএ অনুপাত কমবে। যেমন, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে সংযুক্তির পরে ওই অনুপাত ৬.৬% হবে, যেখানে তিনটি আলাদা ব্যাঙ্কের এনপিএ ছিল ৬.৫৫%, ৫.৯% ও ৮.৭%। অন্যান্য ক্ষেত্রেও অনুরূপ ভাবে এনপিএ অনুপাত আলাদা থাকা ব্যাঙ্কগুলির সর্বোচ্চটির থেকে কম হবে। এর সঙ্গে ১০টির মধ্যে ৫টি ব্যাঙ্কের জন্য অবিলম্বে দেয় ৩৮,৩০০ কোটি টাকার মূলধনী সাহায্যকে ধরলে ব্যাঙ্কগুলি আপাতত তাদের এনপিএর জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ডোবার থেকে বাঁচবে। দেউলিয়া আইনের মাধ্যমে অনাদায়ী ঋণের সমাধানের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলির সংযুক্তি সুবিধেজনক হতে পারে। যেহেতু সমাধানের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে একটি ন্যূনতম ভোটের অনুপাত প্রয়োজন তাই একটি সংযুক্ত ব্যাঙ্কের কাছে ভোট একত্রিত হলে সমাধানের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে বিরোধ কমবে। কিন্তু সংযুক্ত ব্যাঙ্ক যেহেতু বৃহৎ ঋণ দিতে পারবে তাই এটা ভালো নাও হতে পারে। এনপিএর থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য ব্যাঙ্কটি প্রয়োজনের থেকে অতিরিক্ত ঋণ মকুব করতে পারে কেননা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ করদাতাদের অর্থেমূলধনী তহবিল ব্যবহার করে ক্ষতি স্বীকারের ক্ষমতা ব্যাঙ্কটির বাড়বে। এই সম্ভাবনাকে অনুধাবন করে বৃহৎ ও ক্ষমতাবান কর্পোরেট ঋণ খেলাপি ও সম্পদের নিলামে দর হাঁকার সংস্থা, যারা অতি লাভজনক বন্দোবস্ত হাসিল করেছে, তারাই ব্যাঙ্ক ও সাধারণ করদাতাদের ঠকিয়ে বৃহৎ লাভ করতে পারে।

ক্রমপুঞ্জিত এনপিএ-র ফলে উদ্ভুত রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কগুলির সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়ার কোনো উপায়ই ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণ হতে পারে না কারণ তা এনপিএ সৃষ্টির কারণটিকে উৎখাত করতে পারে না। ওই এনপিএ সৃষ্টির আদত কারণ সরকারি বিনিয়োগ কমা। সরকার পরিকাঠামো ক্ষেত্রতেও বিনিয়োগ করতে রাজি নয়। যে সমস্ত ক্ষেত্রে সরকার আগে বিনিয়োগ করত, যে প্রকল্পের সময়কাল দীর্ঘ, মূলধনবহুল ও প্রভুত বিনিয়োগের দরকার যে সমস্ত ক্ষেত্রে সেখানে সরকারের মুখ্য বিনিয়োগকারীর সেই সমস্ত ক্ষেত্রে সরকার কেবল বেসরকারি বিনিয়োগকর্তার সহায়ককারীর ভূমিকা পালন করছে। বেসরকারি বিনিয়োগকারীকে উৎসাহ প্রদানের জন্য ব্যাঙ্কের ঋণ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে ও অধিক হারে মুনাফার প্রতিশ্রুতিও থাকছে। ওই প্রকল্পগুলি ভীষণভাবে ঋণ-নির্ভরও বটে। কিন্তু ওই ধরনের প্রকল্পের অনেকগুলিই লাভজনক হয়ে উঠছে না। সেই সমস্ত প্রকল্পগুলিতে ঋণগ্রহীতা বারম্বার ঋণ পুনর্গঠন করেও ঋণখেলাপিতে পরিণত হচ্ছে। এতদসত্বেও সরকার অনুরূপ প্রকল্পগুলিতে বিনিয়োগের জন্য কর রাজস্ব সংগ্রহের কোনো বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের কথা ভাবতে চাইছে না। পরিবর্তে ব্যাঙ্ক সংযুক্তি করে বেসরকারি ক্ষেত্রে আরেক দফা বৃহৎ প্রকল্পে বৃহৎ ঋণ পাওয়ার বন্দোবস্ত করতে চাইছে। যেহেতু বেসরকারি অর্থলগ্নিকারীরাও ওই সব প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না তাই সম্ভবত সরকার সংযুক্ত বৃহৎ ব্যাঙ্কের উপরে ক্ষমতা প্রয়োগ করে বৃহৎ ঋণ প্রদানের বন্দোবস্ত করবে ও বর্তমান বিনিয়োগ বন্ধ্যাকে কাটাতে চাইবে। ফলে বিনিয়োগের চাকাকে গড়ানোর আশা করছে যতক্ষণ না আরেক দফার এনপিএ সমস্যার উদ্ভব হয়।

এই সমস্যাকে কাটানোর জন্য সরকার ব্যাঙ্কগুলিকে বেসরকারিকরণের দিকে এগোবে বলে মনে হয়। তাহলে পরবর্তীতে এমন সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের দায় থাকবে না। এমনিতেই গত কয়েক বছর ধরে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কগুলির শেয়ার বহুলাংশেই বেসরকারি হাতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্কগুলির মূলধনকে পুনর্গঠন করার পরে সেগুলিকে সম্পূর্ণ বেসরকারিকরণ করা হলে সরকারের তহবিলে অর্থ আসবে, অন্যদিকে কোনো দেশীয় ব্যবসায় গোষ্ঠি বা বিদেশী ব্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠানের হাতে দায়ভার তুলে দেওয়া যাবে। তবে অভিজ্ঞতা বলছে যে, কোনো বিদেশী ব্যাঙ্ক পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ঋনপ্রদানে রাজি হবে না। অন্যদিকে দেশীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠির হাতে নিয়ন্ত্রণ তুলে দিলে আগের ব্যাঙ্কগুলির মতো সেই গোষ্ঠি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে সংগৃহীত আমনতকে নিজেদের প্রকল্পে ব্যবহার করতে চাইবে। যার ফলে ব্যাঙ্ক ফেল করার সম্ভাবনা বাড়বে। ফলে আবার সরকারকে ব্যাঙ্কিং সমস্যা মেটাতে পদক্ষেপ নিতে হবে। ফলে বর্তমান প্রক্রিয়াটি পুনরায় ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

তাছড়া ব্যাঙ্কগুলির সংযুক্তি যে চূড়ান্ত বিচারে কর্মী সঙ্কোচন করবে তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। শাখা সঙ্কোচন হওয়া স্বাভাবিক কারণ একই অঞ্চলে বা স্বল্প দূরত্বে অবস্থিত সংযুক্ত হয়ে যাওয়া বিভিন্ন ব্যাঙ্কের শাখার কোন একটিকে রেখে বাকিগুলি যে বন্ধ করে দেওয়া হবে তা বলাই বাহুল্য। সেক্ষেত্রে কর্মী হ্রাস স্বাভাবিক পরিণতি। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণবেসরকারিকরণের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণ মোদি সরকারের আরেকটি চক্রান্ত বলেই মনে হয়।

কয়েকটি ছোট্ট অর্থনৈতিক তথ্য

১) গত আর্থিক বছরে বিলগ্নীকরণ মানে সহজ করে বললে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বেচে আয় হয়েছিল ৮৭ হাজার কোটি টাকার মতো। এই বছরে এই ধরনের সম্পত্তি বেচে “বখাটে ছেলেদের” ঠাটবাট বজায় রাখার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছে ১ লক্ষ ৫ হাজার কোটিটাকা। কিন্তু, এবারে কেনার লোক তেমন পাওয়া যাচ্ছে না বলেই খবর ... মানে সম্পত্তি বেচে আয় কত হবে তা কিছুটা অনিশ্চিত।
২) “বখাটে ছেলেদের” পরবর্তী অবশ্যম্ভাবী লক্ষ্য হয় “জমানো টাকায়” হাত দেওয়া। অনেকদিন ধরে চেষ্টা চলেছে, এইবারে শক্তিমান থুড়ি “শক্তিকান্ত”বাবুর হাত ধরে, বিমল জালানদের একটি কমিটির সুপারিশকে “শিখণ্ডী” সাজিয়ে রিজার্ভ ব্যাংক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে ১ লক্ষ ৮৩ হাজার কোটি টাকার মতো। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের হাতে পরে থাকবে আপতকালীন ৫২ হাজার কোটি টাকার মতো, ইদানীংকালে সর্বকালীন কম।
৩) এরই মধ্যে “বখাটে ছেলেদের” পায়রা ওড়ানোর সখ হয়েছে, কর্পোরেট করে ছাড় দেওয়া হয়েছে, ১ লক্ষ ৪৫ হাজার কোটি টাকার মতো। এছাড়া কোটি টাকার বেশি উপার্জনের ক্ষেত্রে যে বাড়তি সারচার্জ নেওয়ার ঘোষণা হয়েছিল, তাও রদ করা হয়েছে।
৪) গ্যাসের ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছে, শুধু “উজালা” প্রকল্প বাদে। তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে একটি ছোট্ট ঘোষণা হয়েছে, আগামী পয়লা অক্টোবর থেকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় মানে কার্ড দিয়ে তেল কিনলে যে ০.৭৫% ক্যাশব্যাক পাওয়া যেত (“নোটবন্দী”র সময় ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহ দেওয়ার জন্য এই প্রকল্প ঘোষিত হয়েছিল!) তা আগামী ১ অক্টোবর থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে।
৫) “নোটবন্দী”র সময় যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, (বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ বলেছিলেন) তাই, অর্থাৎ দু-আড়াই বছর পর থেকে জিডিপি মোটামটিু দু-আড়াই শতাংশ কমেছে। এই অধোগতি আরো খারাপের দিকে যাবে কিনা তা সময় বলবে।
৬) চারিদিকে মন্দার কারণে কারখানা বন্ধ হচ্ছে। “কুমারী” বেকারের পাশাপাশি “বিধবা” বেকারের সংখ্যাও হুড়মুড় করে বাড়ছে। বাজার সংকুচিত হচ্ছে।
৭) জাতীয় সড়ক কর্পোরেশনের বাজারে ঋণ নাকি এত বেশি যে নতুন প্রকল্প আর হাতেই নিচ্ছে না, চালু প্রকল্পগুলির কাজও হয়েছে শ্লথ।

খণ্ড-26
সংখ্যা-32
17-10-2019