ডেপুটেশন না নিতে নদীয়ার নপাড়া পঞ্চায়েত-প্রধান দপ্তরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেলেন

ব্যাপক গণক্ষোভের আঁচ পেয়ে নদীয়ার নপাড়া অঞ্চলের প্রধান পঞ্চায়েত অফিসে তালা লাগিয়ে কর্মচারীসহ পালিয়ে গেলেন। গত ৮ নভেম্বর নপাড়া অঞ্চলের মানুষ তাঁদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে গিয়েছিলেন। এই ডেপুটেশন কর্মসূচীতে সিপিআই(এমএল)-এর ধুবুলিয়া ব্লক নেতৃত্ব ছাড়াও ঐ অঞ্চলে পার্টির একমাত্র নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যাও ছিলেন। এই সাক্ষাতকার-ডেপুটেশনের জন্য এক সপ্তাহ আগে প্রধানকে চিঠি দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু চালাকি করে তিনি সে চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করেননি। এভাবে বিগত কয়েক মাস ধরে বারংবার জানানো সত্বেও তিনি সাক্ষাত করার তারিখ দিচ্ছিলেন না। ফলে অনন্যোপায় হয়ে ঐ দিনই ডেপুটেশনে যাওয়া হবে বলে পার্টির পক্ষ থেকে জানিয়ে আসা হয়েছিলো। কিন্তু পঞ্চায়েত অফিসে দেখা গেলো তালা ঝুলছে। প্রধানের এইভাবে পালিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে, তার এই ঔদ্ধত্য ও চরম অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

যে জরুরী দাবিগুলিতে অঞ্চলের মানুষ ডেপুটেশনে গিয়েছিলেন তার অন্যতম হলো ১০০ দিনের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া। কিছুদিন আগেই পার্টির পক্ষ থেকে ব্লক ডেপুটেশনে গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে জানানো হয়েছিলো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত গরিব মানুষকে কাজ দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বিপরীতে অভিযোগ উঠেছে এই প্রকল্পে চলছে চরম দুর্নীতি দলবাজি। একই অভিযোগ উঠেছে আবাস যোজনার ক্ষেত্রে। দেখা যাচ্ছে প্রকৃত গরিবরা আবাস প্রকল্পর ঘর পাচ্ছে না, এটা নিয়ে চলছে চরম দলবাজি। প্রকৃত ঘর পাওয়ার যোগ্য দরিদ্র মানুষেরা বঞ্চিত থেকেই যাচ্ছে। কার নাম আগে আছে বা পরে — সেই তালিকা মানুষকে জানানো হচ্ছে না। এ বিষয়ে আদৌ কোন স্বচ্ছতা নেই। যাদের নাম তালিকায় নেই তাদের যুক্ত করার কোনো ব্যবস্থাও নেই। এলাকার মানুষ এসব নানাবিধ বিষয় নিয়ে তাদের প্রশ্নগুলি সম্পর্কে জানতে চায়, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা তাদের বিভিন্ন দাবি এবং অভিযোগগুলি বলতে চায়। কিন্তু পঞ্চায়েত মানুষের কথা আদৌ শুনতেই চাইছে না। একদিকে তৃণমূল ব্যাপক প্রচার করছে “দিদিকে বলো”। অথচ এলাকায় তাঁর দলের “দাদা”দের কাছে বলতে গেলে দেখা যাচ্ছে ওরা কার্যত ‘‘পালিয়ে গেলো”। আসলে পঞ্চায়েত মানুষের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে।

এই অঞ্চলে সিপিআই(এমএল)-এর একজন পঞ্চায়েত সদস্যা রয়েছেন, তাঁর গ্রামসভায় বিভিন্ন সরকারী প্রকল্পের অনুমোদন-রূপায়ণ সহ নানা দিক থেকে লাগাতারভাবে বঞ্চিত করা চলছে। বিরোধী সদস্যার প্রতি এই আচরণের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিক্ষোভ। এভাবে তৃণমুলের অপশাসনের বিরুদ্ধে জমে ওঠা জনগণের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপি এই এলাকায় মাথা তুলতে চাইছে। আসুন, আমরা জনগণের সংগ্রামী বাম বিকল্প গড়ে তুলি। এই আহ্বান জানিয়ে পঞ্চায়েত অফিসের সামনে শতাধিক মানুষের বিক্ষোভ কর্মসূচী সংগঠিত হয়। অংশ নেন জেলা সম্পাদক সুবিমল সেনগুপ্ত, জেলা সদস্য সন্তু ভট্টাচার্য, স্থানীয় নেতা ঠান্ডু সেখ, কলম বিশ্বাস, শংকর রায় প্রমূখ।

খণ্ড-26
সংখ্যা-37
21-11-2019