দুর্বল গ্রামীণ চাহিদার কারণে ৪০ বছরের বেশি সময় পরে প্রথমবার মানুষের ব্যয় ক্ষমতায় পতন

শুক্রবার সকালে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি নতুন সরকারী গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে ২০১৭-১৮ সালে চার দশকেরও বেশি সময় পরে দুর্বল গ্রামীণ চাহিদার কারণে ভোক্তাদের ব্যয় ক্ষমতায় স্পষ্ট পতন হয়েছে।

‘Key Indicators: Household Consumer Expenditure in India’ বা “মুখ্য সূচক সমূহ : ভারতে গৃহস্থালীর ব্যয়” এই শিরোনামে জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর (NSSO) এর একটি সমীক্ষা ফাঁস হয়ে যায়, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে এক মাসে জনপ্রতি একজন ভারতীয় দ্বারা ব্যয় করা গড় অর্থের পরিমাণ ২০১১-১২ সালের ১৫০১ টাকা থেকে ২০১৭-১৮ সালে ৩.৭% হ্রাস পেয়ে ১৪৪৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

মাসিক মাথাপিছু ব্যয়ের (MPCE) পরিসংখ্যানগুলিকে ২০০৯-১০-কে ভিত্তিবর্ষ ধরে মুদ্রাস্ফীতির পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তব সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। ২০১১-১২ সালে দুই বছরের ব্যবধানে বাস্তব মাসিক মাথাপিছু ব্যয় বেড়েছিল ১৩ শতাংশ।

যদিও ২০১১-১২ থেকে দেখলে ২০১৭-১৮ এই ছয় বছরে শহরাঞ্চলে এই ব্যয় বেড়েছে ২% কিন্তু গ্রামাঞ্চলে তা কমে গেছে, এই কমে যাওয়ার পরিমান ৮.৮%। রিপোর্টটি জানিয়েছে শেষ ভোক্তা ব্যয় কমেছিল ১৯৭২-৭৩ অর্থ বছরে।

বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুসারে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক সংবাদটি হ’ল “কয়েক দশকে প্রথমবারের জন্য খাদ্য দ্রব্য ভোগের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। গ্রামীণ ভারতীয়রা যেখানে ২০১১-১২ সালে খাদ্যদ্রব্য বাবদ মাসিক খরচ করতেন ৬৪৩ টাকা, ২০১৭-১৮ সালে সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮০ টাকা। এই দুটো পরিসংখ্যানই প্রকৃত মান অনুযায়ী।

যেহেতু ২০১১-১২ থেকে ২০১৭-১৮, ছয় বছরের বেশি ব্যবধানে, ফাঁস হওয়া এই নতুন সমীক্ষাটি এল — তাই এখান থেকে এটা স্পষ্ট হচ্ছে না কখন এই ভোক্তা ব্যয় সবচেয়ে কম ছিল। তবে যেটা বোঝা যায় তা হল এটা ক্রমহ্রাসমান পর্যায়ে হতে পারে অথবা অর্থনীতিতে বিমুদ্রাকরণ এবং জিএসটির মতো বিষয়ের বাস্তবায়নের ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ও আকস্মিকভাবে হ্রাস পেতে পারে।

জানা যাচ্ছে যে, এই সমীক্ষাটি জুলাই, ২০১৭ থেকে জুন, ২০১৮-এর সময়কালের মধ্যে চালানো হয়েছিল। একটি অফিসিয়াল কমিটি জুন, ২০১৯-এ রিপোর্টটি প্রকাশের জন্যে অনুমোদনও দেয়। তবে, এরপরে রিপোর্টটির ফল প্রতিকূল হওয়াতে এটি আটকে দেওয়া হয়েছে।

যে কমিটি এই রিপোর্টটি প্রকাশের অনুমতি দিয়েছিল ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকাল কমিশন সেই কমিটি তৈরি করেছিল। পাঁচমাস আগে সেই কমিটির এক সভায় এই ভোক্তা ব্যয় বিষয়ক রিপোর্ট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ক্রমহ্রাসমান ভোক্তা ব্যয়ের কারণে উল্লেখিত উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার এই রিপোর্টের তথ্য অনুসন্ধান ও যাচাই করার জন্য সরকার একটি সাব কমিটিও গঠন করে দিয়েছিল। এবং অনুসন্ধানের পর সেই সাব কমিটি গত মাসে সরকারকে জানিয়ে দেয় এই সমীক্ষায় কোনো ভুল নেই।

গড় ব্যয় সমীক্ষার অন্য উৎস

এই বছরের শুরুর দিকে, অগাস্ট, ২০১৯-এ জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ হিমাংশু জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরের দেওয়া অন্যান্য আর্থ-সামাজিক সমীক্ষাকে ভিত্তি করে গড় ব্যয়ের ক্ষেত্রে একইরকম বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছিলেন। এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে ২০১৫-১৬ তা থেকে গ্রাম ও শহর উভয় ক্ষেত্রেই হ্রাস পেয়েছে।

২০১৮ সালে গ্রামাঞ্চলে মূল্য ও গড় ব্যয় ২০১৪ সালের প্রতিমাসে জনপ্রতি ১৫৮৭ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৫২৪ টাকা, শহরাঞ্চলে হ্রাস হয়েছে ২০১৪ সালের প্রতিমাসে জনপ্রতি ২৯২৬ টাকা থেকে ২৯০৯ টাকা।

২০১৪-১৫ মোদী সরকারের প্রথম বছরে এটি সামান্য বেড়েছিল, প্রতিমাসে জনপ্রতি ১৬৬৭ টাকা গ্রামাঞ্চলে এবং ৩২১২ টাকা শহরাঞ্চলে। কিন্তু ২০১৫-১৬-তে এই গড় ব্যয় গ্রামাঞ্চলে কমে যায় বছরে ৪.৪% এবং শহরাঞ্চলে ৪.৮%।

“প্রথম থেকে এপর্যন্ত ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভের যে ব্যয় পরিসংখ্যান পাওয়া যায়, সেই দিন থেকে দেখলে এতো তীব্র ব্যয় হ্রাস কখনও ঘটেনি” হিমাংশু জানাচ্ছেন।

ঋণ স্বীকার : দ্য ওয়ার, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
- মৃণাল চট্টোপাধ্যায়

খণ্ড-26
সংখ্যা-37
21-11-2019