বিবৃতি
প্রশান্ত ভূষণের পাশে দাঁড়ান : সমালোচনা মানে অবমাননা নয়
rars

দুটি টু্ইটের জন্য অ্যাডভোকেট প্রশান্ত ভূষণকে সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে আদালত অবমাননার দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত করেছে তাতে আমরা মর্মাহত। এই রায় কার্যত বাকস্বাধীনতা ও সমালোচনার গলা টিপে ধরার সামিল এবং আদালতের কর্মধারা ও বিচার বিভাগ পরিচালনা সম্পর্কে উঠে আসা সত্যিকারের প্রশ্নগুলিকে ঝেড়ে ফেলার প্রচেষ্টা।

সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি, আন্দোলনকর্মী, আইনজীবি, বুদ্ধিজীবি সহ বিভিন্ন মহল থেকে এরকম সমালোচনা উঠে আসতে দেখেছি আমরা, এবং আমাদের মনে হয় এইসব মূল্যবান সমালোচনাগুলি যথার্থ মর্যাদার সাথে গ্রহণ করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের জরুরী কর্তব্য হওয়া উচিৎ ছিল। আমাদের মনে হয় জনগণের অটুট আস্থা অর্জন করতে চাইলে আদালত-অবমাননার চাবুক না চালিয়ে বিচার বিভাগকে বরং নিজের স্বাধীনতা বজায় রেখে, নির্ভীক ও বস্তুনিষ্ঠ হয়ে জনতার নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকারকে ঊর্দ্ধে তুলে ধরতে হবে।

এই রায় এমন এক সময়ে এল যখন দেশে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, যখন অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে অপরাধ হিসেবে দেগে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সংবিধান আক্রমণের মুখে আছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি সংখ্যাগুরুবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করছে, আর ধারাবাহিকভাবে মোদী সরকার দ্বারা আইনের শাসনকে খর্ব করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধিতা অপরিহার্য। ইউএপিএ বা সিডিশনের মতো উৎপীড়ন আইন ব্যবহার করে বিরোধিতাকে স্তব্ধ করা হচ্ছে। সংখ্যাগুরুবাদের বিরোধী যে কোনও মতামতকেই অ্যান্টি-ন্যাশনাল বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ গুরুত্ব সম্পন্ন বহুবিধ প্রতিষ্ঠানকে দেখা যাচ্ছে ভারতের সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতার বদলে শাসক গোষ্ঠির প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করতে। সাংবিধানিক কর্তব্য পালনে নিঃশঙ্ক চিত্তে পক্ষপাতহীনভাবে নিজেদের বিবেকবুদ্ধি প্রয়োগের বদলে কার্যনির্বাহী বিভাগের সিদ্ধান্তকে বৈধতার শীলমোহর দেওয়াই এই প্রতিষ্ঠানগুলির কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এরকম প্রবণতা যে কোনও গণতন্ত্রের পক্ষেই মারাত্মক। আইন প্রণয়ন বিভাগ, কার্যনির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ বা অন্য যে কোনও ধরণের রাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রতিই হোক না কেন - সমালোচনার কন্ঠ রুদ্ধ করে দিলে তা আর গণতন্ত্র থাকে না, পুলিশ-রাষ্ট্রে পর্যবসিত হতে শুরু করে। আমরা প্রশান্ত ভূষণের পাশে আছি।

সিপিআই(এমএল) কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে 
সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য 

খণ্ড-27
সংখ্যা-29