খবরা-খবর
বিরোধী দলগুলির বেঙ্গালুরু বৈঠকের বার্তা
opposition-parties

বেঙ্গালুরুতে বিরোধী দলগুলির দ্বিতীয় সফল মন্ত্রণাসভা ও INDIA আদ্যাক্ষরনামে এক নতুন জোটের উদয় স্পষ্টতই মোদী শাসনকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। ওই একই দিনে দিল্লীতে একটা পাল্টা ‘জোট’-এর ছবি খাড়া করার মরিয়া প্রচেষ্টায় ভারতের বিভিন্ন কোণ থেকে নতুন নতুন দল আবিষ্কার ও উদ্ভাবন করাটা এই শাসনের বাড়তে থাকা স্নায়ুচাপকে দেখিয়ে দিচ্ছে।

আগামী ৫০ বছর ধরে অপরাজেয়ভাবে ভারত শাসন করার বিজেপির আত্মম্ভরি হুঙ্কার এক লহমায় চুপসে গেল। বছর খানেক আগে পাটনায় জেপি নাড্ডার সেই দম্ভভরা মন্তব্য মনে আছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে ভারতের আঞ্চলিক দলগুলির দিন ফুরিয়েছে? এ’বছর ৯ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভায় নরেন্দ্র মোদীর সেই ‘এক একেলা’ দম্ভ মনে আছে, যখন তিনি বলেছিলেন যে এই দেশের বহু মানুষের সম্মিলিত শক্তির থেকেও একটা ব্যক্তি অনেক বেশি ওজনদার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে?

আত্মম্ভরী ক্ষমতা-মদমত্ত বিজেপি আজ মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে সুপ্তলুপ্ত NDA ব্যানারকে ২০২৪’র নির্বাচনের আগে আবার জাগিয়ে তোলার। এদের আত্মম্ভরিতা শিবসেনা, আকালি দল বা জেডিইউ’র মতো বেশ কিছু প্রাক্তন দীর্ঘকালীন জোটসঙ্গীকে বিজেপির সাথে সম্পর্কে ত্যাগে বাধ্য করেছে। সেই বিজেপিই এখন এই দলগুলিকে বিভক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং সেই ছররা গোষ্ঠিগুলিকে নিজেদের জোটসঙ্গী হিসেবে মানিয়ে নিচ্ছে। রামবিলাস পাসোয়ানের প্রয়াণের পর এরা এলজেপি পার্টিটাকে ভাঙ্গার কারিগরি করেছে, আর এখন পূর্বতন একক দলটির দুই টুকরোকে নিয়ে দুইটি নতুন জোটসঙ্গী পাওয়ার অঙ্ক খেলছে!

আতঙ্কিত মোদী শিবির এখন ইণ্ডিয়াকে ভারতের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে চাইছে। এটা করে সে ভারতের সংবিধানের প্রতি তার অবজ্ঞাকে আরও একবার প্রকাশিত করে দিল। “ইণ্ডিয়া, দ্যাট ইজ ভারত, শ্যাল বি আ ইউনিয়ন অব স্টেটস”, বলেছে ভারতের সংবিধানের একদম শুরুর লাইনটাই। মোদী সরকার ইণ্ডিয়া ও ভারতের মধ্যে গজাল ঠুকে দিতে চায় এবং ভারতের রাজ্যগুলিকে এক অতিকেন্দ্রীক ইউনিয়ন গভর্মেন্টের উপনিবেশের দশায় নামিয়ে আনতে চায়।

শাসনকার্যের কেবল একটিই মডেল জানে মোদী সরকার। ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে, ভারতের গণতন্ত্রের সাংবিধানিক বনিয়াদ ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরুদ্ধে, তার সামাজিক বুনটের বৈচিত্র্য ও সমন্বিত সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, ভারতের নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে এবং ভারতের কোটি কোটি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের অস্তিত্ব ও মর্যাদার বিরুদ্ধে এক নিরন্তর যুদ্ধ না চালিয়ে মোদী মডেলের শাসনকার্য চলে না। এই বিপর্যয়কে, যে বিপর্যয় সম্পর্কে ডক্টর আম্বেদকর সংবিধান গৃহিত হওয়ার সময়েই সতর্ক করে গেছিলেন, মোকাবিলা করতে ভারতকে তার সমস্ত শক্তিকে ডাক পাঠাতে হবে। সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ সাধারণতন্ত্রের সাংবিধানিক দিশাকে অবশ্যই জীবন্ত রাখতে হবে সর্বব্যাপী নৈরাজ্য ও সঙ্কটের দুঃস্বপ্নের ঊর্ধ্বে যে দুঃস্বপ্ন আজ মোদী জমানা দেশের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।

পাটনা ও বেঙ্গালুরুর বার্তা ভারতের প্রতিটি কোণে প্রতিটি প্রান্তে সমস্ত মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে। আসন্ন নির্বাচন লড়তে হবে বিজেপিকে পরাস্ত করার এক শক্তিশালী জনআন্দোলন রূপে। যুদ্ধটা সবে শুরু হয়েছে। আমরা লড়ব! আমরা জিতব।

- দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক, সিপিআই(এমএল) লিবারেশন

খণ্ড-30
সংখ্যা-24