ধর্মঘট : কলকাতা

Kolkata

Jadavpur

সাধারণ ধর্মঘটকে সফল করে তোলার উদ্দেশ্যে যাদবপুর-ঢাকুরিয়া এলাকা জুড়ে ব্যাপক প্রচার অভিযান সংগঠিত হয়।২৬ থেকে ৩০ ডিসেম্বর লাগাতার সভার পর ৩ জানুয়ারী এ আই সি সি টি ইউ গাঙ্গুুলিপুকুর রিক্সা স্ট্যান্ড থেকে ঢাকুরিয়া স্টেশন পর্যন্ত প্রচার পদযাত্রা সংগঠিত হয়, রিক্সা চালক- অটো চালক ও সাধারণ মানুষের কাছে ধর্মঘটের আবেদন নিয়ে। ৫ জানুয়ারী একই সাথে যাদবপুর ৮ বি ও ঢাকুরিয়ায় জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। যাদবপুরের জনসভায় দিবাকর ভট্টাচার্য ও ঢাকুরিয়ায় আকাশ দেশমুখ বক্তব্য রাখেন। ৬ জানুয়ারী গড়ফা রিক্সা স্ট্যান্ড থেকে পালবাজার সন্ধ্যাবাজার হয়ে সন্তোষপুর বটতলা পর্যন্ত প্রচার পদযাত্রা হয় মানুষের কাছে ধর্মঘটের আবেদন নিয়ে। ৭ জানুয়ারী দুপুরে কসবা ইন্ডাস্ট্রিয়াল, কসবা সরকারি বাস ডিপো, আনন্দপুর অঞ্চলে প্রচার সংগঠিত হয়। বিকেলে গোটা এলাকা জুড়ে অটো প্রচার করা হয়।

ধর্মঘটের দিন সকালে এলাকার কমরেডরা একদিকে পালবাজার ও অন্যদিকে গাঙ্গুলিপুকুর বাইপাসে জড়ো হয়। গাঙ্গুলিপুকুর বাইপাসে যৌথ ভাবে অবরোধ চলার ৩০ মিনিট পর তৃণমূলের স্থানীয় কাউন্সিলার তরুন মন্ডলের নেতৃত্বে হামলা হয় পুলিশের সামনেই। পাল্টা প্রতিরোধ করলে পুলিশ আইসার অভিজ্ঞান সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে গড়ফা থানায় নিয়ে যায়। পালবাজারে ধর্মঘটীরা যৌথভাবে মিছিল করে যাদবপুর স্টেশন পর্যন্ত যায়, পরে পুলিশ সেখান থেকেও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। যাদবপুর ৮বি থেকে বিভিন্ন বামদলের ২৫ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সিপিআই (এম-এল) পার্টি অফিসের সামনে মাইক লাগিয়ে তৃণমূলী গুন্ডারা অফিস ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে। এরপর এলাকার পার্টি কর্মীরা গড়ফা থানা হয়ে আলিপুর কোর্টেপৌঁছায়, সেখানে গড়ফা থানা থেকে কোমরে দড়ি পরিয়ে আনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হলে পুলিশ বাধ্য হয়ে তা খুলে নেয়। তারপর কোর্টথেকে জামিন করিয়ে সকলে আবার সরাসরি এলাকায় উপস্থিত হয়। এরপর সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ পালবাজার মোড় থেকে তৃণমূলী হামলার প্রতিবাদে ও রাজনৈতিক কর্মীদের কোমরে দড়ি পরানোর বিরুদ্ধে মিছিল শুরু হয়। মিছিল গড়ফা থানার সামনে পৌঁছে বিক্ষোভ শুরু করে ও মানবাধিকার সংগঠন পিইউসিএল সহ এক প্রতিনিধিদল থানায় জেনারেল ডাইরি করেন। পুলিশ প্রতিনিধি দলের কাছে এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলে বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়। ৯ জানুয়ারী সকাল থেকে ধর্মঘটীরা পার্টি অফিস এলাকায় জমায়েত থাকেন। তৃণমূলী গুন্ডারা পুনরায় কোন হামলার সাহস দেখায়নি। সন্ধ্যা ৬টায় আবার কর্মী-সমর্থকরা পালবাজার মোড়ে জমায়েত হন ও প্রতিবাদ সভা শুরু হয়। বক্তব্য রাখেন এ আই সি সি টি ইউ-র রাজ্য সম্পাদক বাসুদেব বোস ও কলকাতা জেলা সম্পাদক দিবাকর ভট্টাচার্য, সিপিআই (এমএল)-র কলকাতা জেলা সম্পাদক অতনু চক্রবর্তী, জেলা কমিটি সদস্য আকাশ দেশমুখ।

বক্তারা সকলেই ধর্মঘট ভাঙার জন্য তৃণমূলী প্রশাসনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। হামলা ও তার প্রতিরোধে এলাকার বামপন্থী মানুষের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহের সঞ্চার হয়। সংগ্রামী বামপন্থী শক্তি হিসেবে সি পি আই (এম-এল) ও আইসা-র ছাত্র কমরেডদের উপস্থিতি এলাকায় ভালো মাত্রায় প্রভাব ফেলেছে।

খণ্ড-26
সংখ্যা-2
10-01-2019