খবরা-খবর
যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কুস্তিগীরদের চলমান প্রতিবাদের সাথে সংহতি !
against-sexual-harassment

ব্রিজভূষণকে ডব্লিউএফআই চেয়ারপারসনের পদ থেকে বরখাস্ত কর, অবিলম্বে এফআইআর দায়ের কর এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ কর।

কেন ব্রিজভূষণকে আড়াল করছে মোদী সরকার। বেটি বাঁচাও-এর নামে নিপীড়ক বাঁচাও!

তিন দিন ধরে আমরা দেশের সবচেয়ে সম্মানিত কুস্তিগীরদের রাস্তায় বেরিয়ে আসতে দেখছি। তাঁরা সুবিচার চাইতে দিল্লির অসহনীয় দাবদাহ অগ্রাহ্য করে সাহসী প্রতিবাদ গড়ে তুলেছেন। এই সাহসী কুস্তিগীররা চরম হয়রানি, মানসিক নির্যাতন, সামাজিক বয়কট, এমনকি তাঁদের পুরো ক্যারিয়ার ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকিও মোকাবাএলা করতে প্রস্তুত কারণ তাঁরা আর এই অন্যায় সহ্য করতে রাজি নন। ২০১৬ সালের অলিম্পিক পদক বিজয়ী সাক্ষী মালিক, প্রথম মহিলা কুস্তিগীর যিনি এই কীর্তি অর্জন করেছেন; এশিয়ান এবং কমনওয়েলথ গেমসের পদক বিজয়ী ভিনেশ ফোগাট, অলিম্পিক পদক বিজয়ী বজরং পুনিয়া এবং আরও অনেক কুস্তিগীর যারা তাঁদের খেলার সাধনায় নিজেদের রক্ত, ঘাম আর চোখের জল ঝরিয়েছেন, আজ তাঁরাই ডব্লিউএফআই প্রধানের দ্বারা যৌন হয়রানির প্রতিবাদে পথে নেমেছেন। তাঁদেরই একজন বলেন, “এই লড়াই ওরা শুধু নিজের জন্য ন্যায়বিচার চাইতে লড়ছে না, বরং পরবর্তী সমস্ত প্রজন্মের ক্রীড়াবিদ এবং মহিলাদের জন্য ন্যায়বিচার চাইতে লড়ছে। মাথার উপরে খোলা আকাশ হোক বা পায়ের নীচের তপ্ত পাথর- কোন কিছুই তাঁদের দমিয়ে দিতে পারবে না, তাঁরা ভারতের কৃষক ঘরের ছেলে-মেয়ে, সুবিচার না পাওয়া পর্যন্ত ওরা থামবে না।”

কনট প্লেস থানায় ব্রিজভূষণ শরণের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করেন সাত কুস্তিগীর। অভিযোগকারীদের নিরুৎসাহিত করার জন্য, দিল্লি পুলিশ এফআইআর দায়ের করতে অস্বীকার করে এবং গোপনীয়তা বিধি চরমভাবে লঙ্ঘন করে সাতজন অভিযোগকারীর নাম, যার মধ্যে একজন নাবালকও রয়েছে, জনসমক্ষে ফাঁস করে দেয় যাতে সংঘ বাহিনীর জালে তাঁরা আরও হয়রানি হন। এই বছরের জানুয়ারিতে এই কুস্তিগীররা দিল্লির যন্তর মন্তরে এসেছিলেন ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে। তখন তাঁদের প্রশমিত করা হয়েছিল তদন্তের মিথ্যা আশ্বাস তথা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। আজ, তিন মাস পরে, ব্রিজভূষণ শরণ বিভিন্ন ন্যাশনাল নিউজ চ্যানেলে হাজির হয়ে নির্লজ্জভাবে নিজের সাফাই গেয়ে চলেছেন, অথচ তদন্ত এখনও বাকি  রয়েছে এবং একই সাথে মহিলা কুস্তিগীরদের ডব্লিউএফআই থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে এবং হুমকি দেওয়া হচ্ছে শুধুমাত্র তাদের কেরিয়ার নয় জীবনও ধ্বংস করে দেওয়ার, এমনকি তাঁদের পরিবারেরও। একদিকে, অভিযুক্তকে বিজেপি নেতৃত্ব সম্পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে এবং অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ তাকে রক্ষা করতে উঠে পড়ে লেগেছে। অভিযোগকারীদের বয়ান অনুযায়ি এফআইআর দায়ের করা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার পরিবর্তে স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের সমস্ত নিয়মনীতি নির্লজ্জভাবে লঙ্ঘন করে তাঁদেরকেই যৌন হয়রানির প্রমাণ সরবরাহ করতে বলে অভিযোগকারীদেরই অপরাধী হিসাবে দাঁড় করাতে চেষ্টা করা হচ্ছে। ডব্লিউএফআই-এর মধ্যে অভিযুক্তের প্রভাব অপরিসীম। এবং ভিনেশ ফোগাট জানিয়েছেন যে, কোনো সমালোচনা বা অভিযোগ জানালেই সাথে সাথে সামাজিক বয়কট শুরু হয় এবং অভিযোগকারীর কর্মজীবন ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি চলে। এই ক্রীড়াবিদরা যারা খুব সম্প্রতিও  তাাঁদের পদকের জন্য প্রশংসিত হচ্ছিলেন তাঁরাই এখন প্রকাশ্য আঘাত, হয়রানি এবং অপমানের শিকার হচ্ছেন। শুধুমাত্র এই কারণে যে তাঁরা এই অন্যায়ের সামনে নীরব দর্শক হয়ে থাকতে অস্বীকার করেছেন। শুধু মাত্র এই কারণে যে তাঁরা ন্যায় বিচার দাবি করেছেন। তাছাড়া আর কিসের জন্য? একজন যৌন নিপীড়ককে রক্ষা করতে এতসব? কেন? এই কারণেই যে তিনি ক্ষমতাসীন দলের সদস্য?

মোদী শাসনের দ্বারা ব্রিজভূষণকে এইভাবে নির্লজ্জ আড়াল করার ঘটনা আমাদের উন্নাওয়ের বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে আড়াল করার, কাঠুয়া ধর্ষণের অভিযুক্তদের সমর্থন করার, বিজেপি নেতৃত্বাধীন গুজরাট সরকার দ্বারা বিলকিস বানোর ধর্ষকদের মুক্তি দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়। একই বিজেপি সরকারের অধীনে, বিএইচইউ? এর মহিলারা যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এবং জিএসক্যাশ দাবি করায় লাঠিচার্জের মুখোমুখি হয়েছেন। দেখা যাচ্ছে, মোদি শাসন ‘নিপীড়ক বাঁচাও, বালাৎকারি বাঁচাও’ কলা ভালোই রপ্ত করেছে।

আজ, ২৬ এপ্রিল, আইপোয়া, আইসা, এআইসিসিটিইউ এবং আইলাজ-এর এক প্রতিনিধি দল প্রতিবাদী কুস্তিগীরদের সাথে সংহতি জানিয়ে যন্তর মন্তরে যায়  এবং ব্রিজভূষণ শরণকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার এবং আর কোন বিলম্ব না করে এফআইআর নথিভুক্ত করার দাবি জানায়। যৌন হয়রানি, প্রাতিষ্ঠানিক দায়মুক্তি এবং ক্ষমতার সম্পূর্ণ অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিবাদী কুস্তিগীরদের সংগ্রামকে সমর্থন করার জন্য আমরা সমাজের সকল অংশকে আরও একবার আবেদন জানাচ্ছি আমরা।

২৬ এপ্রিল ২০২৩
এআইপিডব্লিউএ, এআইএসএ, এআইসিসিটিইউ,  আইলাজ

খণ্ড-30
সংখ্যা-12