খবরা-খবর
শ্রমজীবী মহিলা ও স্কীম কর্মী ঐক্যমঞ্চ’র পক্ষ থেকে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
celebrates-independence-day

এআইসিসিটিইউ কলকাতা জেলা কমিটির পক্ষ থেকে গড়ে তোলা শ্রমজীবী মহিলা ও স্কীম কর্মী ঐক্যমঞ্চ’র সদস্যরা বেশ কয়েক মাস যাবত অচেনা অজানা শ্রমজীবী মহিলাদেরকে সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে কলকাতার নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। নতুন ধরনের এক অনুশীলনের মধ্য দিয়ে আজ ধীরে ধীরে (তৃণমূল অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও) কয়েকটি এলাকায় লেগে পড়ে থাকার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন। এরই মাঝে ১৫ আগস্ট, স্বাধীনতা দিবস একটা বাড়তি সুযোগ এনে দিল। দুটো পকেটে স্বাধীনতা দিবস পালনের মধ্য দিয়ে এলাকায় শিকড় প্রোথিত করার সুযোগকে মঞ্চের সদস্যরা হাতছাড়া করেননি। সকাল ৬টা থেকে প্রস্তুতি নিয়ে একটা পকেটে সকাল ৮টায় এবং আর একটা পকেটে দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। চারিদিকে তৃণমূলের কর্মসূচি চলছে তার মধ্যেই এলাকার শ্রমজীবী মহিলারা ও তাঁদের পরিবারের পুরুষেরা, বাচ্চারা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে মঞ্চের ব্যানার টাঙ্গিয়ে কর্মসূচিকে সফল করেছেন। মঞ্চের লিফলেট বিলি করেছেন, যার হেডলাইন ছিল স্বাধীনতার ৭৭ বছর চলছে আমরা শ্রমজীবী মহিলারা আজও কেন বঞ্চিত?

১৫ আগস্ট ২০২৩। আকাশ একরাশ ঝলমলে সোনালি রোদ্দুর ছড়িয়ে দিয়েছে। আমরা টিমের সদস্যরা স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানটি পালন করার জন্য সকাল ৮টায় আমাদের কাজের একটি এলাকায় গিয়ে পৌঁছলাম। একাদশী, প্রিয়াঙ্কা, কল্পনা, রূপা, রোজিনাবিবি, ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরা অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা, সবাই এগিয়ে এসে, হাতেহাত মিলিয়ে ব্যানার টাঙানো, বেদি তৈরি করা, পতাকা লাগানো, ফুল দিয়ে সাজানো খুবই উৎসাহের সাথে করতে লাগলো। বাড়ির পুরুষেররা উঁচু জায়গায় পতাকার চেন লাগাতে শুরু করলেন।

প্রথমেই পতাকা উত্তোলন করলেন এলাকার বয়স্কা মহিলা রোজিনা বিবি, তারপর একে একে সকলেই মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ নিবেদন করেন। পরবর্তীতে, শ্রমজীবী মহিলা ও স্কীম কর্মী ঐক্যমঞ্চ’র পক্ষ থেকে স্নিগ্ধা বসু স্বাধীনতা দিবস ও সংবিধান নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কবিতা আবৃতি করে। এদের মধ্যে একজন একাদশী হালদার ছোট্ট করে বক্তব্যও রাখেন। নিজের থেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘মুক্তির মন্দিরে’ গানটি শুরু করেন। শহীদ স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সকলে মিলে জনগণমন গানটি গেয়ে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত করা হয়। সবশেষে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কেক ও চকলেট দেওয়া হয় ।

আরেকটি এলাকা দুপুরের দিকে, মেঘের আড়ালে সূর্য মুখ লুকিয়ে ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়তে লাগল। মঞ্চের সদস্যরা বৃষ্টির মধ্যেই বেরিয়ে পরে অন্য একটি এলাকার দিকে। এই অঞ্চলের মহিলারা কাজ থেকে ফিরে এসে স্বাধীনতা দিবসের পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আগেই জানিয়ে ছিলেন। বাইরে অবিশ্রান্ত ধারায় বৃষ্টির হচ্ছে তারই মধ্যে দুপুর ১২টা নাগাদ লক্ষী, পূজা, কাকলি, শম্পা — ছোটবড় ছেলেমেয়েরা প্রথমেই এসে পৌঁছে যায়। এখানেও সবাই মিলে হাতে হাত লাগিয়ে পতাকা ও ফুল মালা দিয়ে সাজিয়ে তুললো। প্রথমেই পতাকা উত্তোলন করেন এলাকার বয়স্কা মহিলা লক্ষী মিস্ত্রি, তারপর একে একে সকলেই মাল্যদান করেন। পরবর্তীতে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। স্বাধীনতা দিবস ও সংবিধান নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মঞ্চের পক্ষে শঙ্করী চট্টোপাধ্যায়। পরবর্তীতে কবিতা, পূজা, ঈশিতা, ঝুম্পা কবিতা পাঠ করে। এখানেও সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গান শুরু করল। আমরাও গানের সাথে সাথে গলা মেলালাম। পরিশেষে সকলে মিলে জনগণমন গানটি গেয়ে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত করি। সবশেষে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কেক ও চকলেট দেওয়া হয়।

- স্নিগ্ধা বসু


স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

এআইসিসিটিইউ অন্তর্ভুক্ত বিরসূল হাট লেদার হকার্স ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ১৫ আগস্ট সকাল ১০টায় বিরসূল হাটে পতাকা উত্তলন করা হয়।

পতাকা উত্তলন করেন ইউনিয়ন নেতা মহঃ রুসতম। পূর্ব মধ্য কলকাতা আঞ্চলিক টীমের পক্ষ থেকে অশোক সেনগুপ্ত, খোকন ঘোষ, মহঃ আমিন, মহঃ সাত্তার, মহঃ সামিম, মহঃ কলিম, মহঃ মনসুর সহ প্রায় ৩৫/৪০ জন হকার উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন মহঃ ইউনুস এবং দিবাকর ভট্টাচার্য্য। অনুষ্ঠান শেষে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

এছাড়াও বিদ্যাসাগর মঞ্চের ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবারের ন্যায় এবারও এআইসিসিটিইউ অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নকে আমন্ত্রণ জানায়। সেখানেও ইউনিয়নের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ করা হয়। সেখানে দিবাকর ভট্টাচার্য্য বক্তব্য রাখেন।


খণ্ড-30
সংখ্যা-28