বিবৃতি
দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারির নিন্দা করছে সিপিআই(এমএল)
delhi-cm-kejriwal's-arrest

কেজরিওয়াল, হেমন্ত সোরেন, মণীষ সিসোদিয়া, সঞ্জয় সিং এবং অন্যান্য বিরোধী নেতৃবৃন্দকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে!

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী (সিপিআইএমএল) তথাকথিত আবগারি কেলেঙ্কারির অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট-এর (ইডি) হাতে দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারির তীব্র নিন্দা করছে। দেশে বিরোধী ও গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরের দমনে মোদী সরকারের লাগামহীন জরুরি অবস্থা ও অভিসন্ধির আর এক অধ্যায় রূপে দেখা দিচ্ছে এই গ্রেপ্তারি।

ঝাড়খন্ডের হেমন্ত সোরেনের পর অরবিন্দ কেজরিওয়াল হলেন দ্বিতীয় নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী যাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যে অভিযোগগুলোর প্রমাণ এখনও অনেক দূরে। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই একই অভিযোগে দিল্লীতে আম আদমি পার্টির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতা, উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীষ সিসোদিয়া এবং সাংসদ সঞ্জয় সিংকেও কিছুদিন আগে গ্রেপ্তার করা হয়। হালফিলের যা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই অনুসারে কেউই জামিন না পেয়ে জেলে রয়েছেন, যদিও চার্জশিট প্রদান বা বিচার প্রক্রিয়া শুরুর কোনো চিহ্নই দেখা যাচ্ছে না।

২০১৪ সালে মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইডির চালানো মামলার ৯৫ শতাংশই হয়েছে বিরোধী নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে এই ধারাটা মোদী সরকারের জনবিরোধী নীতিমালার সমালোচকদের বিরুদ্ধে ইডিকে লেলিয়ে দিয়ে প্রতিহিংসা চরিতার্থতার রাজনীতিরই প্রতিফলন।

গত কয়েক বছর ধরে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার সারা দেশের বিরোধী নেতৃবৃন্দের হেনস্থা ঘটাতে ও তাদের ভয় দেখাতে ইডি ও সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে উদ্ধতভাবে কাজে লাগিয়ে আসছে। অ-বিজেপি দল শাসিত রাজ্য সরকারগুলোর নেতৃবৃন্দকেই মূল নিশানা করা হয়েছে। অতি সম্প্রতি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে।

অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে এমন সময় গ্রেপ্তার করা হলো যখন বড়-বড় কর্পোরেট সংস্থার কাছ থেকে বিপুল মূল্যের সম্পদ নিজেদের ভাঁড়ারে আনতে নির্বাচনী বন্ডকে কাজে লাগানোর জন্য বিজেপি সরকার পড়েছে জোরদার নজরদারির মুখে। সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এই বন্ডগুলোকে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেছে এবং বন্ডগুলোর বিশদ তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। এই বিষয়টা থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারি এক মরিয়া কিন্তু দানবীয় পন্থা বলেই মনে হচ্ছে।

লোকসভা নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে বিরোধী নেতৃবৃন্দের এই গ্রেপ্তারি, তাদের বিরুদ্ধে হুমকিবাজি ও তাদের হেনস্থা দেখাচ্ছে যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি এই সরকারের বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই। বৈষম্যমূলক ও অগণতান্ত্রিক আইন, রাষ্ট্রের মদতপুষ্ট সংখ্যাগুরুবাদী হিংসা, ক্রমবর্ধমান অসাম্য ও বেকারি এবং বড়-বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলোর অভূতপূর্ব মাত্রার সম্পদ ও ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠা — এই সমস্ত কিছুর জন্য দেশ যে পরিমাণে অশান্ত হয়ে উঠেছে তাতে সরকারের আশঙ্কা যে জনগণের ক্ষোভ নির্বাচনে তাদের অবস্থা খারাপ করে দিতে পারে। আর তাই যে কোনো ফলপ্রসূ বিরোধিতাকে নির্মূল করতে সরকার চেষ্টার কোনো খামতিই রাখছে না।

সিপিআই(এমএল) দাবি জানাচ্ছে, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, হেমন্ত সোরেন, মণীষ সিসোদিয়া-সহ অন্যান্য বিরোধী নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। সিপিআই(এমএল) সমস্ত বিরোধী দলের কাছে আবেদন জানাচ্ছে, এই কঠিন সময়ে ঐক্যকে সুদৃঢ় করুন এবং ভারতীয় জনগণের সমর্থনের ভিত্তিতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে শাসক দলকে মুখের মতো জবাব দিন।

(সিপিআইএমএল কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে এই বিবৃতিটি ২১ মার্চ প্রকাশ করেন রবি রাই)

খণ্ড-31
সংখ্যা-11