শ্রম আইনগুলোকে রদ করার বিরুদ্ধে ভারতব্যাপী প্রতিবাদ
aicc

করোনা মহামারীর মোকাবিলার নামে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট ও অন্যান্য রাজ্য শ্রম আইনগুলোকে রদ করায় এআইসিসিটিইউ ১২ ও ১৩ মে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগঠিত করে। তামিলনাড়ু কর্নাটক, উত্তরাখণ্ড, দিল্লী, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিম বাংলা ও অন্যান্য রাজ্যের সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের শত-শত শ্রমিক এই প্রতিবাদে অংশ নেন। লকডাউনের বিধি মেনে যেখানেই শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিবাদ জানানো সম্ভব ছিল, তা সে বাড়ি, ইউনিয়ন অফিস বা অন্যান্য স্থানই হোক, সেখানেই শ্রমিকরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রতিবাদ ও প্ল্যাকার্ডের ছবিও তাঁরা পোস্ট করেন। সংগঠিত প্রতিবাদকে সরাসরি সম্প্রচার করতে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াকেও কাজে লাগানো হয়। শ্রম আইনগুলোকে রদ করার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তাঁরা বলেন, এই আইনগুলোকে বাতিল করলে তা পুঁজিপতিদের কাছে শ্রমিকদের ক্রীতদাসে পরিণত করার লাইসেন্স হয়েই উঠবে।

ranch

 

পরিকল্পনাহীনভাবে লকডাউন নামানোয় তা শ্রমিকদের রুটিরুজি ও কাজ কেড়ে নিয়েছিল, এখন আবার তাদের অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। লকডাউনে শ্রমিকদের যে মৃত্যুগুলোকে (ঔরঙ্গাবাদ, বিশাখাপত্তনমে এবং বাড়ি ফেরার সময় বিভিন্ন স্থানে রাস্তার দুর্ঘটনায়) এড়ানো যেত, সেগুলো এখন রাষ্ট্র চালিত গণহত্যা রূপেই দেখা দিচ্ছে। খাবার ও জল ছাড়াই শত-শত মাইল পায়ে হেঁটে শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। লকডাউন উঠে গেলে পুঁজিপতিদের যাতে সস্তায় শ্রমিক পেতে অসুবিধা না হয় তার জন্য ট্রেন পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। প্রতিবাদের পর ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা হলেও শ্রমিকদের কাছ থেকে ভাড়ার সঙ্গে সারচার্জও আদায় করা হয়েছে। শ্রমিকরা খাবার চাইলে বা বাড়ি ফিরে যেতে চাইলে পুলিশ পৈশাচিক ভাবে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে, যেমনটা দেখা গেছে সুরাট ও অন্যান্য স্থানে। শ্রম আইনগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলে অনেক শ্রমিকের মৃত্যুকেই এড়ানো যেত।

nai

 

এই প্রতিবাদগুলোর মধ্যে দিয়ে এই বিষয়টাকেও জোরের সাথে তুলে ধরা হয় যে, প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে তাঁদের ভাষণগুলোতে ভুরিভুরি কথা বললেও শ্রমিকদের জন্য কোনো ঘোষণাই তাঁদের ভাষণগুলোতে দেখা যায়নি। বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদের মধ্যে দিয়ে এআইসিসিটিইউ নিম্নলিখিত দাবিগুলোকে তুলে ধরেছে:

  • ১। শ্রম আইনগুলোর ওপর আক্রমণকে অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে;
  • ২। শ্রমিক-বিরোধী সমস্ত অধ্যাদেশ/শ্রম বিধিকে প্রত্যাহার করতে হবে এবং শ্রমিকদের ক্রীতদাসে পরিণত করার সমস্ত প্রচেষ্টাকে অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে;
  • ৩। লকডাউন চলা কালে নিহত সমস্ত শ্রমিকের জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে;
  • ৪। সমস্ত শ্রমিককে ১০০০০ টাকা লকডাউন ভাতা অথবা সুনির্দিষ্ট ন্যূনতম মজুরি (যেটা বেশি হবে) দিতে হবে;
  • ৫। খাদ্য, রেশন, নিরাপত্তা এবং কাজের নিশ্চয়তা দিতে হবে; এফসিআই-এর গুদাম খুলে দিতে হবে;
  • ৬। শ্রমিকদের লে-অফ করা থেকে কারখানা মালিকদের প্রতিহত করতে হবে;
  • ৭। শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে চাইলে শিল্পপতিদের নির্দেশে তাদের আটকানো যাবে না; যে সমস্ত শ্রমিক বাড়ি যেতে চায়, বিনামূল্যে এবং নিরাপদে তাদের বাড়ি ফেরাটাকে সুনিশ্চিত করতে হবে।
jal

এ রাজ্যের এই কর্মসূচী

দার্জিলিং জেলা বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশ, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ সহ অন্যান্য রাজ্যে অর্ডিনান্সের মাধ্যমে শ্রমিকদের কাজের সময় ৮ ঘণ্টার বদলে ১২ ঘণ্টা করা, অন্য সমস্ত শ্রমকানুনকে আগামী ৩ বছরের জন্য নিস্ক্রিয় করে দাস শ্রমিক করে তোলা, যাদবপুরে বামপন্থী কর্মীদের উপর তৃণমূল বাহিনীর হামলা এবং হুগলীতে গৈরিক বাহিনীর দাঙ্গা লাগিয়ে দেওয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধে আজ সমগ্র দেশজোড়া বিক্ষোভের সঙ্গে এআইসিসিটিইউ-র পক্ষ থেকে শিলিগুড়ি হাসপাতাল সংলগ্ন হরেন মুখার্জী রোডে স্লোগান, প্ল্যাকার্ড সহ বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। নেতৃত্ব দেন পুলক গাঙ্গুলি, মোজাম্মেল হক, অপু চতুর্বেদী, মীরা চতুর্বেদী, রুবি সেনগুপ্ত, শাশ্বতী সেনগুপ্ত প্রমুখ।

জলপাইগুড়ির কদমতলায় এআইসিসিটিইউ-র পক্ষ থেকে ব্যানার প্ল্যাকার্ড নিয়ে সোচ্চার শ্লোগান বিক্ষোভে সামিল হন প্রদীপ গোস্বামী, শ্যামল ভৌমিক, মুকুল চক্রবর্তীরা।

Nadia

 

নদীয়া জেলায় এআইসিসিটিইউ'র ডাকে ১৩ মে প্রতিবাদ দিবসের কর্মসূচী ধুবুলিয়া ব্লক দপ্তরের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। বিড়ি শ্রমিক, হকার ইউনিয়নের কর্মীরা অংশগ্রহন করে। পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাও, খাদ্য দাও, অর্থ দাও। ৮ ঘন্টা কাজের অধিকার কেড়ে নিয়ে ১২ ঘন্টা করা চলবে না- ইত্যাদি স্লোগানে, প্ল্যাকার্ডের প্রচারে এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে। উপস্থিত ছিলেন পার্টির জেলা সম্পাদক সুবিমল সেনগুপ্ত প্রমূখ। ঐ দিনই কৃষ্ণনগর বাস স্ট্যান্ডে অনুরূপ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। পরিবহন শ্রমিক সহ সমস্ত শ্রমজীবীদের প্রচেষ্টা প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা হলো কেন? বিভিন্ন দাবি ব্যাখ্যা করে বক্তব্য রাখেন এআইসিসিটিইউ নদীয়া জেলা সম্পাদক অমল তরফদার।

খণ্ড-27